প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৯ (সোমবার)
বানিয়াচংয়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, কারণ জানতে চান গ্রাহকরা

গত কয়েকদিন ধরে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে চলমান বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। বিশেষত গতরাতে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে অনেকেই ঘুমাতে পারেননি। এর জের ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু মানুষ। সিলেট অঞ্চলের শীর্ষ স্থানীয় অনলাইন নিউজপোর্টাল সিলেটভিউসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের খবরটি প্রচারিত হয়।

রবিবার বিকেলের দিকে 'বানিয়াচং বিদ্যুৎ সেবা Unofficial' নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়, গতকাল বিকেল থেকে একটি চাইনিজ ঠিকাদার কোম্পানি লাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছে, যা সম্পন্ন হতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কাজ চলমান থাকা অবস্থাতেই আজ সারাদিন বানিয়াচংয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল তুলনামূলক ভালো; বলা চলে আজ কোনো উল্লেখযোগ্য বিভ্রাট ঘটেনি। এমনকি আজ (রবিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে, এই প্রতিবেদন লেখার সময় প্রচণ্ড ঝড়-তুফানের মধ্যেও বিদ্যুৎসেবা থেকে বঞ্চিত হননি বানিয়াচংবাসী।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো: আসসালামু আলাইকুম। ভুলতা গ্রিডের কাছাকাছি ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি লাইনের 'Y' ফেজের পাঁচটি স্প্যানের কন্ডাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশীয় ঠিকাদার কাজ করতে ব্যর্থ হন। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ জুলাই বিকেল থেকে একটি চাইনিজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। তবে কাজের পরিধি ও জটিলতা বিবেচনায় সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে আরও আনুমানিক দুই-তিন দিন সময় লাগবে বলে ঠিকাদার জানিয়েছেন।

এই কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট লোডশেডিং প্রসঙ্গে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মহোদয়ের সাথে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং যাতে সহনীয় মাত্রায় রাখা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ, ২৬ জুলাই সকাল থেকে সরবরাহ পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত ভালো। গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।"

তবে এই বিবৃতির পরও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, মেরামতকাজ চলমান অবস্থাতেই যদি এত ভালো সেবা পাওয়া যায়, তাহলে কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর হয়তো এক মিনিটের জন্যও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটবে না।

শুধু এবারের ঘটনাই নয়, স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ আরও পুরনো ও গভীর। তাদের ভাষ্যমতে, "৩৩ কেভি লাইন মেরামত" এর অজুহাত দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবঞ্চিত থাকতে হয় এই অঞ্চলের গ্রাহকদের। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কখনোই যুক্তিসঙ্গত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

এমন পরিস্থিতিতে বানিয়াচংবাসীর স্পষ্ট জিজ্ঞাসা,  অজুহাত বা কারিগরি ত্রুটির বাইরে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতে প্রকৃতপক্ষে সমস্যাটা কোথায়, আর কেনই বা এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না, তা স্পষ্টভাবে জানতে চান তারা।



সিলেটভিউ২৪ডটকম/জসিম/এসডি-১৭