প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০০ (মঙ্গলবার)
সিলেটের সেই শিক্ষিকার তদন্ত কমিটি নিয়ে হয়নি সিদ্ধান্ত, থানায় জিডি

ছবি: সিলেট ভিউ।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে এখনও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারসংক্রান্ত নীতিমালার কোনো সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ।

 

এদিকে ভিডিওটি ঘিরে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল। এ ঘটনায় গত ২৪ জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ ও প্রবাসী আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

 

জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান।

 

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিউটি রাণী পাল নিজের ফেসবুক আইডি থেকে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে একটি বাংলা গানের সঙ্গে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় হাঁটার দৃশ্য ছিল ওই ভিডিওতে। পোস্ট করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

 

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত সেই কমিটি গঠন করা হয়নি।

 

এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, ‘এখনও তদন্ত কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। কারণ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সিলেট সফরে রয়েছেন। এ কারণে কিছুটা ব্যস্ততা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ও মন্তব্য করেছেন, গান গাওয়া বা ভিডিও করা নিজেই কোনো অন্যায় নয়। তাই এ অবস্থায় তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন হবে কি না, সেটিও আমরা বিবেচনা করছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল এটিই যাচাই করা হবে যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণবিধি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা লঙ্ঘিত হয়েছে কি-না।’

 

সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এ ঘটনায় সরকারি আচরণবিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। গান গাওয়া বা শিল্প-সংস্কৃতিচর্চা একটি স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তাই আপাতদৃষ্টিতে কোনো অনিয়ম বা অন্যায় দেখা যাচ্ছে না। তবে বিস্তারিত পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 

সাইবার বুলিং ও হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত আইনি বিষয়। প্রশাসনিক এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিপর্যায়ের এমন কোনো অভিযোগ তদন্ত করার সুযোগ তাদের নেই।’

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৪