সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গুচ্ছগ্রামে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে ১১ আমির হামজা নামে মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শিশুটি একই গ্রামের সাব্বির আহমদ ও সাবিকুন নাহার দম্পত্তির ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার জানিয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৭ টায় স্বামী সাব্বির আহমদের সাথে শিশু সন্তান আমির হামজাকে ঘুমে রেখে একই গ্রামে অবস্থিত বাবার বাড়িতে যান সাবিকুন নাহার। দুই ঘন্টা পর বাবার বাড়ি থেকে এসে স্বামীকে ঘুমে পেলেও পাশে থাকা সন্তানকে দেখতে পাওয়া যায়নি। এরপর স্বামীকে জাগিয়ে শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আশেপাশের এলাকায় অনুসন্ধান করে পরিবার। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে অদূরে একটি পরিত্যক্ত শৌচাগারের ট্যাংকে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। রিংয়ের ট্যাংকটি ঢাকনা ছাড়া ছিলো। শিশুর মরদেহটি রিংয়ের ভেতরে জমে থাকা পানিতে ভাসছিলো। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
শিশুটির মা সাবিকুন নাহার বলেন, আমার ছেলে মাত্র ১১ মাস বয়স। হাটতে পারে না। কেউ আমার সন্তানকে হত্যা করে ট্যাংকের ভেতরে ফেলে আসছে। গগনবিদারী আহাজারিতে সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।
এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই গ্রামের মনির হোসেন (৩০) ও তার মা রাবেয়া বেগম,জাহাঙ্গীর আলম (৩৭) ও স্ত্রী আফিয়া বেগসকে (৩৫) আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটি হত্যাকান্ড। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শহীদনুর/এসডি-১৪
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.