ছবি: সিলেট ভিউ।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিশেষ করে শিক্ষক ও কর্মচারী সঙ্কটের কারণে এই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, উপজেলার বেশ কিছু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় মানসম্মত শিক্ষাদান খুব কঠিন হয়ে পড়েছে এবং এই প্রভাব পড়ছে সরাসরি শিক্ষার্থীদের উপর। শুধু শিক্ষকই নয়, উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মচারীরও রয়েছে তীব্র সঙ্কট। ফলে শিক্ষকদেরই দাপ্তরিক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হচ্ছে।
তবে এই সঙ্কটের কথা স্বীকার করে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, এই সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পূরণের জন্য উপযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি করানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, শাল্লা উপজেলায় ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৭টি বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক এবং ৩০টিতে প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) কর্মরত রয়েছেন। আর বাকী ৪০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষক দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। উপজেলায় যেখানে সহকারী শিক্ষক থাকার কথা ৪৭৩ জন তন্মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৮১ জন। সব মিলিয়ে শাল্লা উপজেলার ১০৭টি স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ হাজার ৫৫০ জন এবং শিক্ষক থাকার কথা ৫৮০ জন এরমধ্যে কর্মরত আছেন ৪৪৮ জন, সেই হিসেবে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে ১৩২ জন। অন্যদিকে স্কুলের দপ্তরী কাম প্রহরী কর্মরত আছেন মাত্র ৪৫ জন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার ঘোষ বলেন, ‘শাল্লায় শিক্ষকের খুব সঙ্কট এটা সবারই জানা। আমি এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশাকরি দ্রুততার সহিত এই সমস্যার নিরসন হবে। তবে আমাদের উপজেলায় বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের দিয়েই শিক্ষার মান বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাশকে ফোন দিলে তিনি খুব ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
প্রাথমিক শিক্ষা সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক এ. কে. এম সাইফুল হাসান বলেন, ‘সিলেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্যার আসছেন। উনার কাছে আমাদের ডিপার্টমেন্টের সার্বিক তথ্য দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, আজ সুনামগঞ্জের করুণ অবস্থা দেখে শুনে উনি খুব আশ্চর্য হয়েছেন এবং খুব দ্রুত এবিষয়ে সমাধানের আশ্বাস দেন। আমি আপনার প্রতিবেদনগুলো দেখে স্যারের পিএসকে পাঠিয়েছি। আগামীকাল মঙ্গলবার স্যারের (প্রতিমন্ত্রী) সাথে দেখা হবে এবং অবশ্যই এ বিষয় নজরে আনার চেষ্টা করবো।’
এদিকে হাওরবেষ্টিত দুর্গম অঞ্চলের এই বিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সঠিকভাবে সচল রাখতে দ্রুত শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ করার অনুরোধ জানান শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকার সচেতন সমাজ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ সন্দীপন/ এহিয়া-১০
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.