প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ২০:১২ (বৃহস্পতিবার)
উত্তপ্ত হবিগঞ্জ, এনসিপির গাড়ি বহর আটকে দিল পুলিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
 

বুধবার সকাল থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে পুরো জেলাজুড়ে। এর আগে ২৯ জুলাই সকালে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
 

আদেশে বলা হয়, এনসিপি একই দিন হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অপরদিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল, যুবদল একই সময় ও একই স্থানে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

জেলা প্রশাসনের মতে, উভয় কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি, জনশান্তি বিনষ্ট ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
 

আদেশ অনুযায়ী, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মিছিল, স্লোগান, পিকেটিং, মাইকিং, যেকোনো ধরনের উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন সব ধরনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।

এর আগে হবিগঞ্জ শহরে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দলটি সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

বুধবার হবিগঞ্জে বিকেল ৩ টায় সমাবেশে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
 

বিকেলে পুর্বঘোষণা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে গাড়ি বহর নিয়ে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে বহরটি বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মুছাই নামস্থানে পৌছলে গাড়ি বহরটি আটকে দেয় পুলিশ। পরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুলিশের সঙ্গে তর্কবিতর্কে জড়ায় এনসিপির নেতারা। এক পর্যায়ে সন্ধা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ ও এনসিপি একটি সমঝোতায় পৌছায়।
 

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, “পুলিশ আমাদের উপর অমানবিক আচরণ করেছে। সবশেষ আমাদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পুলিশের সঙ্গে গিয়ে অনলাইনে মামলা করা হবে মর্মে সমঝোতায় পৌছায়। আর এতে করে মুছাই এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত মুছাই পুলিশ ফাড়িতে এনসিপি ও পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে ওইখানে বসেই মামলাটি করা হবে।”

অন্যদিকে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে এনসিপির ‘উস্কানিমূলক মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে শহরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বলেন, ‘যেহেতু ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই গাড়ি বহর আটকানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা আমাদের দায়িত্ব।’

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাকির/এসডি-১৪