“আমার ছেলের কোন অপরাধ ছিল না। সে গণঅভ্যুত্থানের মিছিলে গুলিবিদ্ধ হওয়া আহত লোকজনের উদ্ধার করতে গিয়ে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। আমরা আমার পুত্র হত্যার বিচার দেখে মরতে চাই।”
এমন কথাগুলো বলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জে ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া শহীদ মিনহাজ আহমদের মা সিতাই বেগম। ছেলে মিনহাজ আহমদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ মিনহাজ আহমদ পেশায় ছিলেন সিএনজিচালিত (অটোরিকশা) মেকানিক। এই ঘটনার ২বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই বলে তারা দাবি করেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট উপজেলার পৌর শহরে শত শত ছাত্র-জনতার মিছিলে যখন উত্তাল, ঠিক তখনই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন অসংখ্য মানুষ। আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন সিএনজি (অটোরিকশা) ওয়ার্কশপের মেকানিক মিনহাজ আহমদ। তখন মুহুর্মূহ গুলি ছোড়ার কারণে তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শহীদ মিনহাজ আহমদের বাড়ি উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের দত্তরাইল গ্রামে।
এ ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি। শুরুও হয়নি বিচারকার্য। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন মিনহাজ আহমদের পরিবার।
মিনহাজের বাবা আলা উদ্দিন আলাই ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মিছিলে গুলিবিদ্ধ আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আমরা ছেলে হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
মিনহাজের মা সিতাই বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলের কোন অপরাধ ছিল না। সে আহত লোকজনদের বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হয়েছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/হারিছ/এসডি-১৬
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.