ছবি: সংগৃহিত
২০২৭ সালের হজ যাত্রীদের জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। সেইসাথে হজ যাত্রীদের প্রতারিত না হতে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাওয়ার কার্যক্রম কার্যক্রম সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন সংস্থাটি।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৫টায় হাব সিলেট অঞ্চলের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান হাব নেতৃবৃন্দ। এসময় লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান হাব সিলেট অঞ্চলের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল কাদির।
তিনি জানান, ২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন ২৭ জুলাই শুরু হয়েছে এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। একজন হজযাত্রীকে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন এবং পরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ হজযাত্রী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন। তাই প্রতারণা এড়াতে সরকার অনুমোদিত ও তালিকাভুক্ত হজ এজেন্সির মাধ্যমেই হজের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।
হাব নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে কিছু অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আকর্ষণীয় হজ প্যাকেজের বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেরই বৈধ হজ লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেই। তাই বুকিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স যাচাই এবং সরাসরি বৈধ হজ এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে অর্থ লেনদেনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের জন্য সিলেট অঞ্চলের তিনটি বিশেষ হজ প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়। প্রথম প্যাকেজের মূল্য ৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় প্যাকেজ ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় প্যাকেজ ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তিনটি প্যাকেজেই কোরবানির (আদাহি) খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
হাব জানায়, সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি এজেন্সিকে হজ পরিচালনার জন্য ন্যূনতম দুই হাজার হজযাত্রীর কোটা পূরণ করতে হয়। এ লক্ষ্যে সিলেটের ২৩টি অনুমোদিত হজ এজেন্সি নিয়ে গঠিত 'সিলেট এলায়েন্স'-এর মাধ্যমেই ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এলায়েন্সভুক্ত যেকোনো এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং করলে সিলেটের হজযাত্রীরা সরাসরি সিলেট থেকে জেদ্দা বা মদিনায় যেতে এবং ফিরতি যাত্রায় সরাসরি সিলেটে ফিরতে পারবেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাব নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেট এলায়েন্সভুক্ত এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং করলে হজযাত্রীদের হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সিলেটের এজেন্সির মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে হজে যেতে পারবেন।
প্রতারণা এড়াতে হাব সিলেট অঞ্চল যে বৈধ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে বুকিং করার আহ্বান জানিয়েছে, সেগুলো হলো— আকাবা ট্রেডিং করপোরেশন, যাত্রিক ট্রাভেলস, এলাইট ট্রাভেলস, শিপলু ওভারসিজ, আল ইহসান ট্রাভেলস, ডিসকভারি সিলেট ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, তাসফিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, আল মনসুর এয়ার সার্ভিস লিমিটেড, সিপার এয়ার সার্ভিস, আলফা ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল (মৌলভীবাজার), খাজা এয়ার লাইনার, আবাবিল এয়ার সার্ভিস, ইকরা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, নিবরাস ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস (মৌলভীবাজার), বাংলাদেশ ওভারসিজ সার্ভিস, সিটি ওভারসিজ, লতিফ ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড, ট্রাভেলন এয়ার সার্ভিসেস, আল শরীফাইন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (মৌলভীবাজার), সিলেট সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস এবং রাব্বানী ওভারসিজ এভিয়েশন।
হাব নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রতিবছর অবৈধ হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারির ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অনেকটাই কমেছে। তবে প্রতারণা পুরোপুরি রোধে হজযাত্রীদের সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে হাব সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল হক, সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল কাদির ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, হাব সিলেট অঞ্চলের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খান রেজওয়ান, সাবেক সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন আহমদ আমজাদ, ভাইস চেয়ারম্যান মাসহুদ আহমদ, কার্যকরী পরিষদ সদস্য ইসরার আহমদ রাকি প্রমুখ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ইকে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.