প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ২১:৩৪ (বৃহস্পতিবার)
ডায়রিয়া ও ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে ওআরএস হোক প্রথম ভরসা

​আজ বিশ্ব ওআরএস দিবস (World ORS Day) | প্রতিবছর ২৯ জুলাই বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয় পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়াজনিত মৃত্যু হ্রাসে ওরল রিহাইড্রেশন সল্ট বা ওআরএস এর (খাবার স্যালাইন) জাদুকরী ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিতে | চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে কম খরচে কোটি কোটি জীবন বাঁচানোর অন্যতম সেরা আবিষ্কার বলা হয়ে থাকে এই খাবার স্যালাইনকে।
 

​বর্তমান তীব্র গরমের দিনে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হওয়া কিংবা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে | আর এই ধরনের পরিস্থিতিতে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটস (লবণ) বের হয়ে যায়, যা দ্রুত পূরণ না করলে তৈরি হয় মারাত্মক ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা |

​কেন ওআরএস আমাদের প্রথম ভরসা ?
​ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে যে পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে যায়, সাধারণ পানি একাকী তা দ্রুত পূরণ করতে পারে না | ওআরএস এ সঠিক পরিমাণে গ্লুকোজ ও সোডিয়ামসহ অন্যান্য লবণ থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রে খুব দ্রুত শোষিত হয় এবং শরীরের পানির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে |
 

​দ্রুত কার্যকর : লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে ওআরএস শুরু করলে হাসপাতালে ভর্তি বা আইভি (ইনট্রাভেনাস) স্যালাইনের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যায় |
​সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী : এটি তৈরি করা ও ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ এবং প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায় |
​শিশু থেকে বয়স্ক সকলের জন্য উপযোগী : সঠিক পরিমাপে প্রস্তুত করলে এটি যে কোনো বয়সের মানুষের জন্যই জীবনরক্ষাকারী |

​ওআরএস ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
​১. পুরো স্যালাইন একবারে গুলুন : এক প্যাকেট ওআরএস নির্দিষ্ট পরিমাণ (সাধারণত হাফ লিটার বা ৫০০ মি.লি.) ফুটানো ঠাণ্ডা বা বিশুদ্ধ পানিতে পুরোপুরি মিশিয়ে নিতে হবে | অর্ধেক স্যালাইন অর্ধেক পানিতে গোলানো একেবারেই উচিত নয়, এতে লবণের মাত্রা কম-বেশি হয়ে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হতে পারে |
২. ১২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার : গুলিয়ে রাখা ওআরএস স্যালাইন সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে | এর পর অবশিষ্ট স্যালাইন ফেলে দিয়ে নতুন স্যালাইন তৈরি করা উচিত |
৩. গরম পানিতে গোলানো যাবে না : ফুটন্ত বা গরম পানিতে স্যালাইন গোলানো উচিত নয়, পানি আগে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে |

​সঠিক সচেতনতায় সুস্থ জীবন
​আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত  তীব্র গরম কিংবা ডায়রিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা মাত্রই যেন আমরা ওআরএস-কে প্রথম ভরসা হিসেবে বেছে নিই | ঘরে ঘরে খাবার স্যালাইনের সঠিক প্রস্তুতি ও ব্যবহার সম্পর্কিত সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে আমরা গড়ে তুলতে পারি এক সুস্থ ও নিরাপদ জীবন |

​সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং তীব্র গরম ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে খাবার স্যালাইন পানের অভ্যাস বজায় রাখুন |

 

লেখক: মনজুরুল মা আবুদ, এমকম (হিসাববিজ্ঞান), এম পিএইচ (পুষ্টি ও স্বাস্থ্য) জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।