ছবি: নিহত পুলিশ সদস্য মনোজ কান্তি দাস।
মনোজ কান্তি দাস, বয়সটা তাঁর ৫৫ বছর। এসআই (উপপরিদর্শক) হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও জেলা পুলিশে পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেছেন। এইতো আগামী ১ আগস্ট থেকে চাকুরি থেকে তাঁর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি জীবনের ইতি টেনে সহকর্মীদের কাছ থেকে হাসিমুখে বিদায় নেওয়ার কথা ছিল তার। সহকর্মীরাও তাকে বিদায় দিতে প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস চাকরি থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরে যাওয়ার আগেই জীবন থেকে চিরবিদায় নিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধ্যে রাতে নগরীর বাগবাড়ির নরসিংটিলা এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির।
নিহত মনোজ কান্তি দাস সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের মৃত মহিম চন্দ্র দাসের ছেলে। তার এই মৃত্যুতে সিলেট জেলা ও মেট্টোপলিটন পুলিশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মনোজ কান্তি দাসের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, মনোজ কান্তি দাস বর্তমানে মৌলভীবাজারে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত ছিলেন। এর আগে গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী মারা যান। তিনি একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মনোজ কান্তি দাস মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বাগবাড়ি নরসিংটিলা এলাকার ২৫৯ নম্বর বাসায় শশুর-শাশুড়ির সাথে বসবাস করতেন। বাসাটির নিচতলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও ছেলেমেয়েরা থাকলেও দ্বিতীয় তলায় একাই থাকতেন মনোজ কান্তি দাস।
প্রতিদিনের মতো সোমবার (২৭ জুলাই) দায়িত্ব পালন শেষে রাতে বাসায় ফেরেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজের কক্ষে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার সারাদিন তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রাতে স্থানীয়রা ৯৯৯ কল দিয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পয়ে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় ঘরের মেঝেতে মনোজ কান্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএমজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির বলেন, ‘বাগবাড়ী এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ঘর থেকে এক এসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.