ছবি: এআই।
সিলেট মহানগরীতে একদিনে পৃথক পৃথক ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক এই ঘটনাগুলোর মধ্যে দুইজন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে একজন স্কুল শিক্ষক এবং অপরজন যুবক। অন্যদিকে মহানগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে একজন ব্যবসায়ী এবং অন্যদিকে আবাসিক এলাকা থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পৃথক এই ঘটনাগুলোতে মহানগরীর বাসিন্দাদের মনে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিভিন্ন সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) থানাধীন শহরতলীর খাদিমপাড়াস্থ বিসিক শিল্প এলাকার সামনে অজ্ঞাত একটি গাড়ির সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় মোটরসাইকেল আরোহী মারা যান এবং মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হন। এসময় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করে।
নিহত ওই যুবক শাহরিয়ার হাসান (২৬)। সে সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) দাসপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে।
শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ‘শাহপরান (রহ.) থানাধীন শহরতলীর বিসিক শিল্প এলাকার সামনে অজ্ঞাত একটি গাড়ির সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় মোটরসাইকেল আরোহী মারা যান। লাশ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতাল কলেজের মর্গে প্রেরণ করা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার সিলেট মহানগরীর মিরের ময়দান এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত শিক্ষক মুরাদ আহমেদ (৫৯)। তিনি সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন মাছিমপুর এলাকার মৃত নুরুদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে কেওয়াপাড়া এলাকার ইসমাইল টাওয়ারের ১০২ নম্বর ফ্লাটের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার সিলেট মহানগরীর মিরের ময়দান এলাকায় বাংলাদেশ বেতার সিলেট কার্যালয়ের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুত গতির একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় শিক্ষক মুরাদ আহমেদ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির। তিনি বলেন, নিহত শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এমএজি ওসমানী কলেজের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একই দিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজারস্থ লালবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
নিহত ওই যুবক সোহেল আহমদ (৩৫)। সে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওর এলাকার । বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগরীর নয়াসড়ক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তিনি মহানগরীর হাসান মার্কেটের ব্রিফকেস ও বিভিন্ন ব্যাগেজের ব্যবসায়ী।
জানা যায়, সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজারস্থ লালবাজারের হোটেল আলী আবাসিকের ২য় তলার ১০৮ নাম্বার কক্ষ ভাড়া নেন ব্যবসায়ী সোহেল আহমদ। দীর্ঘসময় যাওয়ার পর হোটেলে কর্মরত স্টাফরা তাকে ডাকাডাকি করলে তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে দিয়ে রুমের দরজা ভেঙে ফ্যানের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় সোহেল আহমদের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির। তিনি জানান, আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে একজন ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এমএজি ওসমানী কলেজের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) থানাধীন উপশহর ১নম্বর রোডের, এফ- ব্লক, ২১ নম্বর বাসার ঘরের দরজা ভেঙে যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রাব্বী আহমদ (২৯) সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার দুসপুর এলাকার মো. আবু তাহেরের ছেলে। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) থানাধীন উপশহর ১নম্বর রোডের, এফ- ব্লক, ২১ নম্বর বাসার নীচতলা পরিবারসহ ভাড়ায় থাকেন।
পুলিশ জানায়, রাব্বী তার ভাই ও পিতার সাথে সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) থানাধীন উপশহর ১নম্বর রোডের, এফ- ব্লক, ২১ নম্বর বাসার নীচতলা পরিবারসহ ভাড়ায় থাকেন। সে মোবাইলে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সে ঘুম থেকে উঠেনি দেখে তার পিতা ও তার ভাই তার রুমের দরজার সামনে গিয়ে তাকে ডাকতে থাকেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে চিৎকার চেচামেচি করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। পরে ঘরের দরজা ভেঙে দেখেন রাব্বী তার ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় গামছা পেচিয়ে ঝুলে আছে। তাৎক্ষনিকভাবে রাব্বীকে উদ্ধার করে নগরীর সোবহানীঘাট ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করে।
সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাব্বী আত্মহত্যা করতে পারে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-১৩
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.