অ্যাসাইনমেন্টে নামের বানানে ভুল থাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীকে নিজের নাম ৩০০বার লিখে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম হাসনা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শিক্ষকের নাম ৩০০বার লিখে সেটির ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করার পর বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সাইদুল ইসলাম সাইদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের (দ্বিতীয় সেমিস্টার) শিক্ষার্থী। মূলত এর পরই ঘটনাটি নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন সেই শিক্ষিকা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা পোস্টে তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন।
পাঠকদের জন্য শিক্ষিকা মরিয়ম হাসনার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
৩০০বার Course Teacher এর শুদ্ধনাম লিখে আনার Assignment প্রসঙ্গে:
আমাদের বিভাগের ৩য় বর্ষের (২০২২-২৩) শিক্ষার্থীদের 'Entrepreneurship And Small Business Development' কোর্সটি আমি পড়াই। চলতি সেমিস্টারে তাদের 'Growth of Entrepreneurship in Bangladesh' বিষয়ে আমি একটি Assignment দিই। গত বুধবার (২৯-০৭-২৬) ছিল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার তারিখ। স্টুডেন্টরা ওইদিন জমা দেওয়ার পর আমি অ্যাসাইনমেন্টগুলো দেখছিলাম আর ওদের কাছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছিলাম। হঠাৎই আমার চোখ যায় একটি কভার পেজে। দেখলাম সেখানে Course Teacher অর্থাৎ আমার নামের বানানটি ভুল। কৌতূহল বশত আরও কিছু অ্যাসাইনমেন্টের কভার পেজে চোখ বুলালাম। আমার ওই ব্যাচে স্টুডেন্ট সংখ্যা ৫৮ জন। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম তাদের মধ্যে ৩২ জনই তাদের Course Teacher এর নামের বানান ভুল লিখেছে।
Course Teacher হিসেবে আমার দায়িত্ব স্টুডেন্টদের খুঁটিনাটি সব ভুলভ্রান্তি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। কারণ কোর্স অ্যাসাইনমেন্টের মতো একটা ফরমাল পেপারে Course Teacher এর নামের বানান ভুল এক ধরনের দায়িত্বে অবহেলা। আমার এই স্টুডেন্টরাই একদিন বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবে, কেউবা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বাইরে যাবে। সেখানে নামের বানান লেখার এই ধরনের অবহেলা হয়তো ভোগান্তির কারণ হতে পারে। কারণ আজকের ডিজিটাল যুগে বানানের একটা Letter তো দূরের কথা একটা Character ভুল হলে পুরো প্রক্রিয়াই অনেক সময় আটকে যায়। পরিচিত অনেকেই এর শিকার হয়েছে। এটা এখনকার বাস্তবতা।
তাছাড়া দুই/একজন এই ভুলটা করলে সেটা তাদের ডেকে বুঝিয়ে বলতাম। কিন্তু একটা পুরো ব্যাচের ৫৮ জনের ৩২ জনই যখন ভুল করে তখন বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্বের দাবি রাখে। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশেষ কেউ না। আমার নামের বানান ভুল/শুদ্ধ লিখলে আমার কিছু যাবে আসবে না। কিন্তু একটা Formal Academic Paper এ আমার স্টুডেন্টদের এমন ভুল সম্পর্কে সতর্ক করা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, এবং সেটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে যারা Course Teacher এর নামের বানান ভুল করেছে তাদের সবাইকে (৩২ জন) ৩০০বার নামের বানান সঠিকভাবে লিখে আনার কাজ দেই।
গতকাল চোখে পড়লো আমারই এক স্টুডেন্ট বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন এবং সেটা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি দেখে পজিটিভলিই নিয়েছিলাম, যে আলোচনা সমালোচনার মাধ্যমে হয়তো আরও বেশি সংখ্যক স্টুডেন্টের নজরে আসবে। ফলে তারা ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হবে।
কিন্তু বিষয়টি আর সে পর্যায়ে থাকেনি। বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাইরের নানা পেইজ থেকে আমার ছবি ব্যবহার করে একের পর এক পোস্ট করা হচ্ছে। আজ সকাল থেকে লক্ষ্য করলাম বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসা শুরু হয়েছে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবনকে বিষিয়ে তুলছে।
একটা ক্লাসরুমের বিষয় যে এমন আকার ধারণ করতে পারে সেটা আমার কল্পনাতেও ছিল না। যারা এসব করছেন তাদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। শুধু আক্ষেপ একটাই আমাদের শিক্ষার্থীদের বড় বড় ক্যারিয়ার গঠনে শিক্ষক হিসেবে আমরা হয়তো কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারছি।
কিন্তু অনেককেই দায়িত্বশীলতা শেখাতে পারছি না। শিক্ষক হিসেবে সেই ব্যর্থতা আমাদেরই।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৩
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.