ছবি: সিলেট ভিউ।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রশক্তির এক নেতার মেসেঞ্জারের আপত্তিকর কথোপকথনের স্ক্রিনশট ভাইরাল হওয়ার পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এই কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এ সময় নেতারা সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাহাত হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- শাবিপ্রবি ছাত্র ইউনিয়নের সংগঠক নাজনীন লিজা, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে নাজনীন লিজা বলেন, ‘একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ক্ষেত্রে যাকে পেডোফেলিয়া বা শিশুকামিতা বলা হয়, এমন জঘন্য একটি কাজের সঙ্গে এই লোকটি জড়িত। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, পরবর্তীতে তার কোনো অনুতাপও নেই। সে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাফাই গেয়েছে যে, কাজিনের সাথে ক্যাজুয়াল বা স্বাভাবিকভাবেই সে কথাগুলো বলেছে। ছাত্রশক্তির এই পটেনশিয়াল রেপিস্টের (সম্ভাব্য ধর্ষক) বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এর আগে ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা ধর্ষণের ঘটনাকে শিয়াল-মুরগির সাথে তুলনা করেছিল। এছাড়া ফেসবুকে একজন ছাত্রীর নম্বরও ছড়িয়ে দিয়েছিল তাদের একজন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তখনো কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। আমরা চাই, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিশ্চিত শাস্তি হোক।’
ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক বলেন, ‘নবম শ্রেণির একজন কিশোরী মেয়েকে নিয়ে সে যে বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় আমাদের নারীরা এখনো নিরাপদ নয়। আমাদের ক্যাম্পাসের কোনো শিক্ষার্থী এমন বিকৃত মানসিকতা লালন করতে পারে, তা সাজিদ মোল্লাকে না দেখলে আমরা বুঝতে পারতাম না। পরিতাপের বিষয় হলো, ক্যাম্পাসের তথাকথিত সুশীলরা এখনো নিশ্চুপ। এমন ঘটনা আমার বা আপনার বোন কিংবা সহপাঠী যে কারও ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। অথচ কেউ এটা নিয়ে সেভাবে প্রতিবাদ করছে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, অতি দ্রুত এই 'পটেনশিয়াল রেপিস্ট'-কে শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব)’ নামের একটি ফেসবুক পেজে শাবিপ্রবির কেমিকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আহমেদ মোল্লার মেসেঞ্জারের কয়েকটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়। সেখানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ও এক কিশোরী মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর ও অশ্লীল মন্তব্য এবং ধর্ষণের মতো বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। তিন থেকে চারটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, সাজিদ আহমেদ মোল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সমালোচনার মুখে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সংগঠনটি থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ আতহার/ এহিয়া-০৬
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.