প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০০ (বুধবার)
সিলেটে অবৈধ অ*স্ত্র হাওয়া, উদ্ধার হয়নি পুলিশের লুটেরগুলোরও

২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ছিল সিলেট। জুলাইয়ের প্রায় প্রতিটি দিন ছিল আতঙ্কের। একদিকে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, অন্যদিকে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা। পুলিশের সাথে একজোট হয়ে অস্ত্র হাতে মাঠে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডাররা। 


৫ আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালালে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। সেই সাথে আড়ালে চলে যান অস্ত্রধারী ক্যাডাররা। ওই দিন সিলেটের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ। এরপর দুইবছর পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি আন্দোলনে প্রদর্শিত অবৈধ অস্ত্রগুলো। অধরা থেকে গেছে অস্ত্রধারীরাও। ৫ আগস্টের পর অস্ত্রধারী অনেকে পালিয়ে গেছেন দেশ থেকে। পুলিশের লুট হওয়া সকল অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি এই দুইবছরে। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বেগে আছেন সাধারণ মানুষ। 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই নগরীর আখালিয়া এলাকায় পুলিশের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ছাত্র-জনতার উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। শেখ হাসিনার পতনের আগের দিন ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশস্থল কোর্ট পয়েন্টে অত্যাধুনিক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চড়াও হয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ক্যাডাররা। 

অন্তত ৩০ জন ক্যাডার ওইদিন কোর্ট পয়েন্টে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি করে ত্রাসের সৃষ্টি করে। পরে তারা জিন্দাবাজার, আম্বরখানা ও নয়াসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র উঁচিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করেন। 


অস্ত্রধারীদের বেশিরভাগই সরকার পতনের পর ভারতে পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে কেউ কেউ অন্যদেশে পাড়ি জমান। 

এদিকে, ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে পুলিশের অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। লুন্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। 


সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৮৫টি। এখনো উদ্ধারের বাকি রয়েছে ১৬টি। প্রদর্শিত অবৈধ অস্ত্র ও লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন এসএমপির উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। 


এদিকে, সিলেট জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানা থেকে ৩১টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ২১টি উদ্ধার হয়েছে জানিয়ে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানান, লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত আছে। অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতাও চলমান আছে। 


র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানান, অবৈধ ও পুলিশের লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে র‌্যাবের অভিযান চলমান আছে। র‌্যাব বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে পুলিশের লুন্ঠিত বেশ কয়েকটি অস্ত্র, গুলি, সাউন্ড গ্রেণেড, টিয়ারশেল ও টিয়ারশেল গ্রেনেড উদ্ধার করেছে। অবৈধ অস্ত্রধারীদের সনাক্ত ও অস্ত্র উদ্ধারে র‌্যাব তৎপর রয়েছে।  


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ