প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫০ (বৃহস্পতিবার)
জুলাই যোদ্ধাদের অডিটোরিয়ামে থেকে মে*রে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা ও ছাত্রনেতাকে লাঞ্ছিত ও মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
 

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠান চলাকালীন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু (আদর) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিচ্ছেন।
 

হামলার শিকার জাকির হোসেন মিন্টু (আদর) অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগেই তারা হট্টগোল শুরু করে। তারা বলছিল শরীয়তপুরে কোনো জুলাই যোদ্ধা নেই, এখানে কোনো আন্দোলন হয়নি। আমি ভেতরে ঢুকতেই গালাগাল করে এবং হামলা চালায়। আমাকে মারতে মারতে বাইরে বের করে দেয়। এতে আমি মাথায় আঘাত পেয়েছি।’

একই অভিযোগ করে ইমরান আল নাজির বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসকের আমন্ত্রণে একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়। পুরো ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই ঘটেছে, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
 

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, ‘৫ আগস্টের আন্দোলনে বিএনপির বড় ভূমিকা রয়েছে, যা জামায়াতের আমিরও স্বীকার করেছেন। অথচ ইমরান আল নাজিরসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত তারেক রহমান ও তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করে। আজও তারা এমন মন্তব্য করায় কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তাদের বের করে দেওয়া হয়।’
 

এদিকে, ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই ঘটলেও এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভির হোসেন ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো ঘটনা ঘটেনি। হয়তো এর আগে কিছু ঘটতে পারে। আমরা পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো বিস্তারিত জানি না। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারব।’

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৪