প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০০ (শনিবার)
সিলেটে একদিনে ঝরল ১২ প্রাণ

ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।

সিলেটে একদিনে ঘটেছে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন, আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। একই দিনে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অন্যদিকে হবিগঞ্জে বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সিলেট বিভাগের জন্য দিনটি ছিল শোক, উদ্বেগ ও নানা দুর্ঘটনার।

 

দিনের শুরুতেই শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। আহতদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

নিহতরা হলেন- কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব) (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের তিন বছর বয়সী মেয়ে ফাইজা, সিলেটের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে ও বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।

 

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিক পরিবহনের বাসটি কয়েক দফা ওভারটেকের চেষ্টা করে নিজ লেনে ফিরে আসার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল স্লিপার বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

 

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল। অন্যদিকে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আনিসুর রহমান জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

এদিকে সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপও কমছে না। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে সিলেট সদর ও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ জনে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৪ জন। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত আক্রান্ত মিলিয়ে মোট ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেট সদর উপজেলার ইয়ামিন (১ বছর ৫ মাস) এবং অপরজন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আনিসা (৮ মাস)। তারা দুজনই সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক। তাই শিশুদের সময়মতো হামের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র‌্যাশ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

অন্যদিকে হবিগঞ্জ শহরতলীর উমেদনগর এলাকায় বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলমগীর মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নিহত ওই যুবক আলমগীর মিয়া (৩৫)। সে শহরতলীর উমেদনগর পুরানহাটি এলাকার সামছুল হকের ছেলে।

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-১০