নারী ফুটবলের উন্নয়নে এককালীন আয়োজন নয়, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সহযোগিতার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নাইজেরিয়া নারী ফুটবল দলের তারকা অ্যাশলেই প্লাম্পট্রে।
একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্পাইস বাজার ফাউন্ডেশনের কর্ণধার আবদুল গিয়াস।
তিনি জানান, মিশরের তারকা ফুটবলার মোহামেদ সালাহকে বাংলাদেশে আনার বিষয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার সিলেট নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তাঁরা। অ্যাশলেই প্লাম্পট্রে ফাউন্ডেশন, স্পাইস বাজার ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে প্রথমবার এসে সিলেটের তরুণীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অ্যাশলেই প্লাম্পট্রে। খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, তরুণীদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন তিনি।
প্লাম্পট্রে বলেন, শুধু একটি ফুটবল ক্যাম্প আয়োজন করে গণমাধ্যমে প্রচার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ক্যাম্পের পরও মেয়েরা যাতে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারে, নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে খেলোয়াড় হিসেবে এগিয়ে যেতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মেয়েদের ফুটবলের উন্নয়ন এককালীন কোনো আয়োজন হতে পারে না; এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী এই ব্রিটিশ-নাইজেরিয়ান ফুটবলার। ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয় থেকে আসা মেয়েরা একই দলের হয়ে খেলছেন—এটিকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, একটি দলে যখন প্রত্যেকে নিজের পরিচয় নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে এবং অন্যদের কাছ থেকে গ্রহণযোগ্যতা পায়, তখন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও ভালো হয়।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা করে ভালো লেগেছে জানিয়ে ভবিষ্যতে তাঁদের খেলা দেখার আগ্রহও প্রকাশ করেন প্লাম্পট্রে।
নিজের ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছর নাইজেরিয়ার লাগোসে ২৫০ তরুণীকে নিয়ে ফুটবল ক্যাম্প আয়োজন করেছেন। তবে তাঁর লক্ষ্য শুধু মাঠে মেয়েদের খেলানো নয়; ক্যাম্পের পরও তাঁদের পাশে থেকে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা।
খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তরুণীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণীদের নেতৃত্বে এগিয়ে নিতে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এই ফুটবলার।
এদিকে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের আনার পরিকল্পনার কথা জানান স্পাইস বাজার ফাউন্ডেশনের কর্ণধার আবদুল গিয়াস।
আবদুল গিয়াস বলেন, বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করলে বিশ্বের খ্যাতনামা ফুটবলারদের বাংলাদেশে এনে দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের তারকাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগও তৈরি হবে।
তিনি জানান, মিশরের তারকা ফুটবলার মোহামেদ সালাহকে বাংলাদেশে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই সালাহর বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতা পেলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লামিন ইয়ামালের মতো বিশ্বতারকাদেরও বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনার কথা জানান আবদুল গিয়াস। তাঁর প্রত্যাশা, বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের বাংলাদেশে এনে তরুণদের সামনে সরাসরি অনুপ্রেরণার সুযোগ তৈরি করা গেলে দেশের ফুটবলে নতুন আগ্রহ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সিলেট ইউনিটের পক্ষ থেকেও নারী ফুটবলারদের সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের বাংলাদেশে আনার উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সহযোগিতা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের নারী ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
সিলেটে অ্যাশলেই প্লাম্পট্রের এই সফর শুধু একটি দিনের আয়োজনেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংযোগ তৈরির পথ তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৭
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.