বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৪.১১ লক্ষাধিক হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত ৪৩টি উপজেলার হাওরাঞ্চল দেশের অভ্যন্তরীণ মৎস্য আহরণের এক অন্যতম প্রধান উৎস, যা দেশের মোট অভ্যন্তরীণ মাছ উৎপাদনের প্রায় ১৬% থেকে ১৮% জোগান দিয়ে থাকে।
বার্ষিক প্রায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক লেনদেন এবং ২০ লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জীবিকা সংস্থানের কেন্দ্রস্থল হওয়া সত্ত্বেও এই রুপালি খনি বর্তমানে তীব্র পরিবেশগত ও মানবসৃষ্ট সংকটের মুখোমুখি।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) এর তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তন, ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার, সেচ দিয়ে বিল সেঁচে ফেলা এবং নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী বা কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারের ফলে অতীতে বিদ্যমান ১৪০টিরও বেশি দেশীয় প্রজাতির মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১০৭টি প্রজাতি টিকে আছে, যার মধ্যে প্রায় ২৮টি প্রজাতি চরম বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এই বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই সুরক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধকরণ, অভয়াশ্রমের পরিধি সম্প্রসারণ, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং হাওরের তলদেশ খনন (ড্রেজিং) সংক্রান্ত একটি সমন্বিত জাতীয় মহাপরিকল্পনা ও তার কঠোর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।হাওরের পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশীয় মাছের উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেশের আমিষের চাহিদা পূরণ সহ আন্তর্জাতিক বাজারে বিষমুক্ত শুঁটকি রপ্তানি এবং পরিবেশ বান্ধব মৎস্য পর্যটনের মাধ্যমে এক বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
হাওরের বিপন্ন মৎস্য বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উৎপাদন নিশ্চিতকরণে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত ও প্রযুক্তি-বান্ধব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই হবে আমাদের জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
লেখক: আল মুহি মিন অয়ন, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.