প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩০ (বৃহস্পতিবার)
১৯ আগস্ট আদালতে শুনানি ছিল নি হ ত সেই আব্দুস সাত্তারের

ছবি: সিলেট ভিউ।

সিলেট মহানগরীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকায় মিতালি ১১১নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় নির্মমভাবে খুন হন স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীসহ তিন জন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে গোটা সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মহানগীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় এই হত্যারকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় একই দিন বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে বাবুল মিয়া নামের একজনকে গ্রেফতার করে। 

 

নিহতরা হলেন- মৃত আবরু মিয়ার ছেলে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)। 

 

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনার পর পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করে। 

 

ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পুলিশ জানায়, নিহতদের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের দেয়াল ও বাথরুমের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ দেখা গেছে। সাত্তারের কক্ষের তিনটি ওয়ারড্রোব তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। 

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র খোয়া গেছে। মেঝেতে একটি দলিলের কপিও পাওয়া গেছে। রিকাবীবাজারের একটি সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধ ও মামলার একটি ঝামেলা চলছিল বলে জানা গেছে। ওই মামলার একটি শুনানি আগামী ১৯ আগস্ট হওয়ার কথা ছিল।

 

এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহত আব্দুস সাত্তারের আইনজীবী আজিজুর রহমান মানিক। তিনি জানান, রিকাবীবাজারের পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জায়গা ও সেখানে ইম্পাস টাওয়ার নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। গির্জা সমিতির কাছ থেকে লিজ নিয়ে সেখানে বাসা ও স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন মো. আব্দুস সাত্তার। ২০২৩ সালে তিনি ওই সম্পত্তি নিয়ে স্বত্ব মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২১১/২৩। পরে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সিভিল রিভিশন মামলা করেন। ওই মামলায় আব্দুস সাত্তারকে বিবাদী করা হয়। মামলাটির নম্বর ৭০/২৩ এবং আগামী ১৯ আগস্ট শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল।

 

আইনজীবী আজিজুর রহমান মানিক আরও বলেন, প্রতিটি শুনানিতে আব্দুস সাত্তার আদালতে হাজিরা দিতেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও তিনি শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

 

এদিকে নিহতের পরিচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ধারণা, পরিকল্পিতভাবে আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

 

সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণ সামনে রেখে তদন্ত চলছে। রিকাবীবাজারের জায়গা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি বলেন, ‘ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রেম সংগঠিত বিষয়ে এই তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

জানা যায়, আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। একসময় তিনি কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ও দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। তাঁদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ফলে বুধবার পর্যন্ত নিহত দম্পতির সন্তানদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৮