প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৪৭ (শুক্রবার)
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি শিক্ষার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক

ইংরেজি শিক্ষার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং ইংরেজি বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন পেশা ও কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে ‘চ্যালেঞ্জেস এন্ড প্রসপেক্টস ইন ইংলিশ স্টাডিজ: ইন্ডাস্ট্রি পার্সপেক্টিভস’ শীর্ষক একাডেমিক সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এম. হাবিবুর রহমান লাইব্রেরি হলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতার বিষয় নিয়ে শিক্ষা, প্রশাসন ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন পেশাক্ষেত্রের ইংরেজি বিভাগ থেকে অধ্যয়নকারী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সঙ্গে পেশাজগতের চাহিদা সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এই অধিবেশনের সেমিনারের আলোচনায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরটিএম আল-কবীর টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. নুসরাত রিজকা, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বিশিষ্ট লেখক মো. রফিকুল ইসলাম রনি, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা এবং এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির বটেশ্বর শাখার প্রধান এবং মেট্টোপলিটন ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই শাহ মো. মোহসিনুল হক। 

অনুষ্ঠানে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ ইশরাত ইবনে ইসমাইল, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশনস খন্দকার মকসুদ আহমেদ, মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অনীক বিশ্বাস। এতে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানজিদা চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রক্টর সৈয়দ নকীব সাদী, সিনিয়র প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সিনিয়র প্রভাষক নোশিন তাবাসসুম, সিনিয়র প্রভাষক এস. কে. শাহরিয়ার, প্রভাষক আবু ইউসুফ মুসা ও শিক্ষক সহকারী নাহিদা সরকার নিঝুম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও ডিন ড. মো. মাসুদ রানা, স্কুল অব ল-এর ডিন প্রফেসর শেখ আশরাফুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষার্থী কল্যাণ উপদেষ্টা ও মো. আলাউল হক,  আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. এম. জেড. আশরাফুল, ডাটা সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান মো. মুস্তাক শাহরিয়ার রাফি।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে আলোচনার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়। এরপর অতিথিরা পর্যায়ক্রমে নিজেদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে বক্তব্য প্রদান করেন।

ড. নুসরাত রিজকা তাঁর বক্তব্যে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, পেশাগত আচরণ এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মো. রফিকুল ইসলাম রনি তাঁর বক্তব্যে কর্মক্ষেত্রে একজন স্নাতকের দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা এবং কার্যকর যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা, সমস্যা সমাধান এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা গড়ে তোলাও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মাসুদ রানা প্রশাসনিক কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার আলোকে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি যোগাযোগ দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক লেখালেখি, উপস্থাপন দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং পেশাগত দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব দেন। শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তন ও চাহিদা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তিনি তুলে ধরেন।

শাহ মো. মোহসিনুল হক  ব্যাংকিং ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বর্তমান চাকরির বাজারে একজন স্নাতকের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং নতুন বিষয় শেখার মানসিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্যে অতিথিরা বর্তমান কর্মক্ষেত্রে শুধু একাডেমিক ফলাফল বা বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীর যোগাযোগ দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি আরও কার্যকর হবে বলে তাঁরা মত দেন।

অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে ইংরেজি বিভাগের স্নাতকদের কর্মসংস্থান, চাকরির বাজারের চাহিদা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। শিক্ষার্থীরা জানতে চান, ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা করা একজন শিক্ষার্থীকে কর্মক্ষেত্রে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কোন কোন দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কী ধরনের ব্যবহারিক বিষয় যুক্ত করা যেতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ কীভাবে আরও বাড়ানো সম্ভব।

এ ছাড়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন পেশাক্ষেত্রে কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে সহযোগিতা কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি ও বাস্তবভিত্তিক কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন, বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বহুমুখী যোগ্যতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

দ্বিতীয় অধিবেশনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার সম্ভাবনা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিল্পখাত ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সংযোগ, কর্মক্ষেত্রের চাহিদা এবং উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রম নিয়ে  গোলটেবিল বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ পর্বে শিক্ষা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, করপোরেট, এনজিও, প্রশাসন ও উন্নয়ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা অতিথিরা তাঁদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব চাহিদার আলোকে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পেশাগত প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সামঞ্জস্য নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

এ পর্বে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুহশিন আজিজ খান এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসাইন আল মামুন।

এই আলোচনায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির  ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথিদের সরাসরি মতবিনিময় হয়। আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং একাডেমিক শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

আলোচনায় অংশ নেওয়া অতিথিরা তাঁদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেন, একজন ইংরেজি বিভাগের স্নাতকের জন্য শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়, বরং যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাগত আচরণ, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং বাস্তবমুখী প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ।

এই আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকরা অতিথিদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। এর মাধ্যমে একাডেমিয়া ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি কার্যকর ক্ষেত্র তৈরি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ সৈয়দ নকীব সাদী ও সিনিয়র প্রভাষক নোশিন তাবাসসুমের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসের ইশরাত ইবনে ইসমাইল, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অনীক বিশ্বাস।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে