ছবি: ফাইল ছবি।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সরেজমিন তদন্তে যোগ্য বিবেচিত হওয়ার পরও ছয়েফ উদ্দিন আহমদ নামের এক ব্যবসায়ীকে বাদ দিয়ে পাশের মানিকপুর ইউনিয়নের টিসিবির উপকারভোগী এক বাসিন্দাকে কসকনকপুর ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় কসকনকপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন অফিস বাজারের ‘ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক ছয়েফ উদ্দিন আহমদ টিসিবির চেয়ারম্যান, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে ছয়েফ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, টিসিবির ডিলার হওয়ার জন্য আবেদন করার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁকে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে তাঁর হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে এবং মুদি দোকানও রয়েছে। পাশাপাশি টিসিবির পণ্য সংরক্ষণের জন্য ১০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার উপযোগী জায়গা রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ছয়েফ উদ্দিন আহমদ কোনো সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন। সরেজমিন পরিদর্শনে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গুদামের পরিবেশ ভালো পাওয়া গেছে এবং তিনি একজন প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী। সার্বিক দিক বিবেচনায় তাঁকে টিসিবির ডিলার হওয়ার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মতামত দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, কসকনকপুর ইউনিয়নের জন্য অনুমোদন পাওয়া ‘আফরিন এন্ড আফওয়ান এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক মো. মুস্তাফিজুর রহমানের আবেদনও একই কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করেন। তাঁর তদন্ত প্রতিবেদনে আবেদনকারীকে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সধারী এবং টিসিবির পণ্য সংরক্ষণের উপযোগী স্থান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. মুস্তাফিজুর রহমান কসকনকপুর ইউনিয়ন থেকে ডিলারের জন্য আবেদন করলেও তিনি মানিকপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা।
এদিকে, টিসিবির অনুমোদনপত্রে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে পাওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ইতিবাচক সুপারিশের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন এলাকার ৪৪টি প্রতিষ্ঠানকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকায় কসকনকপুর ইউনিয়নের ‘আফরিন এন্ড আফওয়ান এন্টারপ্রাইজ, মো. মুস্তাফিজুর রহমান, কসকনকপুর, জকিগঞ্জ, সিলেট’ নামের প্রতিষ্ঠানটিও রয়েছে।
অভিযোগকারী ছয়েফ উদ্দিন আহমদ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তাও সরেজমিনে এসে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদাম পরিদর্শন করে আমাকে যোগ্য হিসেবে মতামত দিয়েছেন। এরপরও পাশের ইউনিয়নের টিসিবির উপকারভোগী একজন বাসিন্দাকে কসকনকপুর ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার ও নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা পুনঃতদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জানতে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ হাসিব/ এহিয়া-১০
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.