হাঙ্গেরির পূর্বাঞ্চলে পর্যটকবাহী একটি বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পোল্যান্ডের পর্যটকদের বহনকারী বাসটি দেশটির রাজধানী বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পূর্বে মেজোকেরেস্তেশ শহরের কাছে এম-৩ মহাসড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
পুলিশ জানায়, সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা করা বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুজন চালক ছিলেন। মহাসড়ক থেকে বাসটি ছিটকে খাদে পড়ে উল্টে যায়।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ১১ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে কয়েকজন আটকা পড়েন। উদ্ধারকর্মীদের জানালা দিয়ে তাদের বের করে আনতে হয়।
হাঙ্গেরির পুলিশ তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, পোল্যান্ডের নিবন্ধন করা বাসটি এম-৩ মহাসড়ক দিয়ে নিয়িরেজহাজা শহরের দিকে যাচ্ছিল। সোজা সড়কের একটি অংশ থেকে সেটি হঠাৎ ছিটকে খাদে পড়ে উল্টে যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটির চালক ঘুমিয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দেশটির কনস্যুলার সেবা সক্রিয় রয়েছে এবং তারা হাঙ্গেরির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যাচাই করা তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎসকিও দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হাঙ্গেরিতে পোলিশ বাস দুর্ঘটনায় এতসংখ্যক স্বদেশির মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।
২০০৩ সালে সিওফকে একটি ট্রেন জার্মান পর্যটকবাহী বাসকে ধাক্কা দিলে ৩৩ জন নিহত হন। এরপর এটিই হাঙ্গেরিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১২
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.