প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০০ (মঙ্গলবার)
কোথায় বসতে পারবেন হকাররা, জানাল সিটি করপোরেশন

ফাইল ছবি

ঢাকার মূল সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশস্ত ফুটপাতের পথচারী চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত রেখে নির্দিষ্টসংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে।
 

অবশিষ্ট হকারদের জন্য চালু করা হবে হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট। এ ছাড়া হকারদের নিবন্ধন, নবায়ন ও স্থান ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি দিতে হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এসব কথা বলেন।
 

মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘হকারদের জীবিকা বন্ধ করতে চায় না সিটি করপোরেশন। তবে সারা দেশের ভাসমান মানুষকে হকার হিসেবে ঢাকায় পুনর্বাসন করাও সম্ভব নয়। নাগরিকদের চলাচল নির্বিঘ্ন রেখে হকারদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। কেবল যেসব রাস্তায় প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে, সেসব জায়গায় নাগরিকদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা সংরক্ষণ করে নির্দিষ্টসংখ্যক নিবন্ধিত হকার বসানো হবে। অবশিষ্ট হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট ও নাইট মার্কেট চালু করা হবে।’
 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী, হকারদের নিবন্ধন ও নিয়মিত নবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সড়ক ও সময়ে ব্যবসা পরিচালনার শৃঙ্খলাও মানতে হবে। এর মাধ্যমেই হকার সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব।’

সভায় জানানো হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০(২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ডিএসসিসি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, হকারদের এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাবদ মাসিক ৩ হাজার টাকা দিতে হবে। নিবন্ধিত হকারদের ব্যবসার স্থান ও সময় উল্লেখ করে বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা রয়েছে।
 

নীতিমালায় বলা হয়, আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জন্য কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ মিটার বা প্রায় ৫ ফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখতে হবে। হকারদের জন্য কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না।

এ ছাড়া শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে হলিডে মার্কেট পরিচালনা করা যাবে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময় শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন মার্কেট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে মাঠ, উপাসনালয় বা কবরস্থানে এসব মার্কেট বসানো যাবে না।
 

স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। হকারদের নিজ দায়িত্বে ব্যবসার স্থান পরিষ্কার রাখা এবং নির্ধারিত বিনে বর্জ্য ফেলার নির্দেশনাও রয়েছে। নীতিমালার বাইরে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলে উচ্ছেদ এবং নিবন্ধন বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৬