ছবি: এআই।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন নদীর পাড়, চর, পাহাড় সব জায়গায়ই বড় বড় গর্ত। দিনেরাতে এখানকার বালু দেদার চুরি হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না ‘সাদা সোনা’ হিসেবে পরিচিত সিলিকা বালিও। যেন পুরো উপজেলাই অবৈধ বালুখেকোদের স্বর্গরাজ্য। তবে নদীর পাড়ে বালু না থাকলেও সেই বালির কিন্তু হদিস মেলে কারও বাড়ির আঙিনায়, কৃষি জমিতে, যেখানে বালুর পাহাড় তৈরি করা হয়েছে। এসব বালু আবার রাতের আঁধারে বড় বড় ট্রাক-ট্রাক্টরের মাধ্যমে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে। সারা রাত এসব মোটা চাকার পরিবহন চলাচলে ভেঙে যাচ্ছে এলাকার রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট। হুমকির মুখে পড়েছে চা-বাগান ও পাহার-টিলা। অনেক স্থানে টিলা কেটেও সাবাড় করে দেওয়া হচ্ছে।
এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে। মাঝে মাঝে গণমাধ্যমে সংবাদ এলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। দু-এক দিন অভিযান চলে। তারপর আবার একই অবস্থা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসবের পেছনে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী একাধিক সিন্ডিকেট। যাতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। যে কারণে এলাকার কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। আবার বালুখেকোদের বিরুদ্ধে কথা বললে খড়গ নামে হামলা-মামলার। এমতাবস্থায় দিনেরাতে হরদম প্রকাশ্যে চলছে সিলিকা বালুসহ বালু উত্তোলনের মহোৎসব।
অবৈধ বালুখেকোসরেজমিনে কয়েক দিন ধরে উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের গিলানিছড়া, পানছড়ি, পঞ্চাশ, ডেউয়াতলী, দেওছড়া, ইছালিয়াছড়া, রঘুনন্দন পাহাড়, হলহলিয়া, দেউন্দিছড়া, দেওরগাছ, সুতাং নদীর বদরগাজী এলাকা ও বনগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্প-সংলগ্ন খোয়াই নদীসহ বিভিন্ন স্পটে দেখা গেছে অবৈধ বালু উত্তোলনের ভয়াবহ চিত্র। গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুতাং নদীতে একাধিক স্পটে নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা উত্তোলন করছে বালু। সংবাদকর্মী কিংবা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ওই এলাকা দিয়ে গেলেই সটকে পড়েন শ্রমিকরা। আগে থেকেই তাদের সতর্ক করে দেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
গিলানিছড়ায় গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ অবস্থা। চা-বাগানের ভিতর দিয়ে বয়ে আসা ছড়াটি যেন আশীর্বাদ হয়েছে বালুখেকোদের জন্য। যে যেভাবে পারছে ছড়াটি থেকে বালু উত্তোলন করছে। চক্রের সদস্যরা চা-বাগানের টিলা, ছড়ার পাড় অথবা ছড়ার একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত করে তুলছে বালু। এমনভাবে বালু তোলা হচ্ছে যেন পুরো ছড়াটি গ্রাস করে ফেলছে বালুখেকোরা। ওই ছড়ার পাড় দিয়ে হেঁটে চলাই যেন দায়। ছড়াটির পাড় কেটে নেওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে কৃষিজমি ও চা-বাগানের একাধিক টিলা। শুধু সুতাং নদী কিংবা গিলানিছড়াই নয়, উপজেলার সব বালু স্পটের একই অবস্থা।
চুনারুঘাট উপজেলার পার্শ্ববর্তী বাহুবল উপজেলারও একই অবস্থা। উপজেলার হরিতলার ধুলিয়াছড়া থেকে অবাধে পাচার করা হচ্ছে মূল্যবান সিলিকা বালু। শুধু ধুলিয়াছড়া নয়, উপজেলার অন্তত ১৫ থেকে ২০টি স্পটে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। তবে এরই মধ্যে ধুলিয়াছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগে তাউস মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌফিক আনোয়ার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযানে জেলজরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ জাকারিয়া/ এহিয়া-০৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.