ক্ষমতাসীন বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি করা হবে। কমিটির একটি খসড়া প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর যেকোনো সময় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
রাকিবুল ইসলাম ও নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। সম্প্রতি ছাত্রদলের এই শীর্ষ নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে তাদের তাদের মতামত দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কমিটিতে স্থান পেতে বিগত দীর্ঘ প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কে সংগঠনের সঙ্গে ছিলেন, কে মামলা, গ্রেপ্তার বা চাপের মধ্যেও সক্রিয় ছিলেন এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে কার ভূমিকা কেমন ছিল তা মূল্যায়ন হচ্ছে। এর সঙ্গে দেখা হচ্ছে শিক্ষাজীবন, একাডেমিক ফলাফল, পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়, সাংগঠনিক আচরণ এবং কোনো বিতর্ক বা অভিযোগ আছে কি না।
তবে শীর্ষ দুই নেতৃত্বই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রথমে কমিটির পাঁচ সদস্যের নেতৃত্ব ঘোষণা করা হতে পারে। জানতে চাইলে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সম্মণষ সারিতে থাকা ও অবদান রাখা নেতারা নতুন কমিটিতে এগিয়ে থাকবেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অতীতে কারা কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতে কাজ করার সক্ষমতা কার আছে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
জানা গেছে, পদপ্রত্যাশীরা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাছে নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ড ও দলের জন্য ভূমিকা তুলে ধরছেন। কমিটির যথাযথ স্থানে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় আছেন সংগঠটির নেতা-কর্মীরাও। কমিটিতে কারা আসছেন তা জানার অপেক্ষায় আছেন তারা।
জানা গেছে, কমিটিতে নতুন ও পুরোনোর সমন্বয় ঘটতে পারে। সংগঠনে একঝাঁক নতুন মুখ যেমন আসবে, তেমনি আগে কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের নেতৃত্বে ছিলেন, এমন নেতাদেরও প্রাধান্য থাকতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কমিটির শীর্ষ পদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্তত ১৫ জন নেতার নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে।
তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নম্বর সহসভাপতি এ বি এম ইজাজুল কবির (রুয়েল), সহসভাপতি মনজুরুল আলম (রিয়াদ), সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (জিসান), ইব্রাহিম খলিল ও রাজু আহমেদ অন্যতম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, এক নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার (অনিক), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন (শাওন) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।
এর বাইরে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খোরশেদ আলম (সোহেল), আরিফুল ইসলাম (আরিফ), এইচ এম আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম (তারিক), আবদুর রহিম (রনি), ফারুক আহমেদ, শরীফ প্রধান (শুভ) ও মো. সোহেল রানা এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ (প্রিন্স) নিয়েও আলোচনা আছে।
ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে পদপ্রত্যাশী মমিনুল ইসলাম জিসান বলেন, সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটির জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। তাদের নেতৃত্বে দেশ গড়ায় অংশ নেবে ছাত্রদল।
অপর পদ রাজু আহমেদ বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সারা দেশের ছাত্রদল অপেক্ষা করছে। তারা আশা করছে, সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি উপহার দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, এবারের ছাত্রদলের কমিটির সম্ভাব্য নেতাদের বিষয়ে তারেক রহমান নিজেই যাচাইবাছাই করছেন। কেউ যাতে পরিচয় গোপন করে শীর্ষ নেতৃত্বে যেতে না পারেন, সেটাও দেখা হচ্ছে। ছাত্রদলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ও পরীক্ষিত নেতাদেরই নেতৃত্বে আনা হবে। গত বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকটিও সেই প্রক্রিয়ার অংশ। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সে হিসাবে রাকিবুল-নাছির কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। এরপর প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই দায়িত্ব পালন করছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.