ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স ও এআই।
প্রবাসমুখী জনপদ সিলেট। উন্নত জীবন ও ভাগ্য বদলের আশায় প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ পাড়ি জমান যুক্তরাজ্য, আমেরিকা, কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। আর এই স্বপ্নকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালচক্র। বিদেশে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, জাল ভিসা-কাগজপত্র দেওয়া কিংবা টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বাড়ছে। আবার অবৈধ পথে ইউরোপে যেতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে।
সর্বশেষ সিলেটের গোলাপগঞ্জে যুক্তরাজ্যের হেলথ কেয়ার ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কয়েছ আহমদ (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানায়, ভুক্তভোগীদের ভিসার নামে দেওয়া কাগজপত্র জাল প্রমাণিত হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে তাদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৮ টাকা নেওয়ার অভিযোগে বদরুজ্জামান তানভীরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর মধ্যে ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও এখনো ১ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৩০৮ টাকা পাওনা রয়েছে বলে বাদীপক্ষের দাবি। পিবিআইয়ের তদন্তে কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
গত ২৯ মে ইউরোপে পাঠানোর নামে সিলেটের ‘অ্যামেক্স অ্যাসোসিয়েটস’-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৭০০ তরুণের কাছ থেকে অন্তত ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নিয়ে পরে ভুয়া ভিসা দেখানো হয়। অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠানটির অফিস বন্ধ করে মালিকরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে দুজনকে আটক করে পুলিশ।
অন্যদিকে, অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টাও কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি নৌকায় থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি ছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু ও সাতজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাত যুবক রয়েছেন।
সিলেট নগরীর চৌধুরী মুশফিক মুনিমও ‘ট্রাভেল জোন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরিচিত চারজনকে বিদেশে পাঠাতে তিনি ৭৮ লাখ টাকা দেন। পরে ভিসার কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হলে টাকা ফেরত চান। এ ঘটনায় মামলা হলে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীকে আটক করে পুলিশ।
আটাবের সিলেট জোনের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, ‘সিলেটে বৈধ এজেন্সি প্রায় ২০০ হলেও অবৈধ এজেন্সি রয়েছে অন্তত ১ হাজার। বিদেশ যাওয়ার আগে এজেন্সির বৈধতা, ভিসা ও চাকরির কাগজপত্র যাচাই এবং লেনদেনের প্রমাণ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বিদেশগামীদের যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেন।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-১১
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.