ছবি: সংগৃহিত
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে উলুধ্বনি আর কাঁসরের আওয়াজে উদযাপিত হচ্ছে সর্পদেবী মনসা পূজা। মূলত সর্পদংশন থেকে মুক্তি, পরিবারের সার্বিক মঙ্গল কামনায় শ্রাবণ মাসের শেষ পুণ্যতিথিতে মনসার পূজা করা হয়ে থাকে।
ধর্মীয় রীতি অনুসারে ব্রাহ্মণ মন্ত্র শ্রবণ করে যজ্ঞ করেন এবং পরে পূজারীরা পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন দেবীর নিকট। মনসামঙ্গল কাব্যের বেহুলা-লক্ষীন্দরের কাহিনী অবলম্বনে এই পূজা দেশব্যাপীর ন্যায় সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায়ও ব্যাপক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
সর্পদেবীর মর্ত্যলোকে আগমন ও বিদায়লগ্নে সব বয়সী নারী পুরুষ পদ্মপুরাণ পাঠ করেন। বিশেষ করে নারীরা দেবীর পায়ে সিঁদুর ও ধান-দূর্বা অর্পণ করে সবার কল্যাণ কামনায় প্রণাম করেন। ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর ও রংয়ের খেলায় একে অপরকে রাঙিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন।
আজ বিকেলের দিকে কাঁসর-ঘণ্টা, শঙ্খ বাদ্যে, উলুধ্বনি দিয়ে বিসর্জনের জন্য দেবীকে তোলা হয় নৌকায়। পরে উৎসুক ভক্তরা গান গেয়ে 'মা মনসা কি জয়' প্রতিধ্বনি দিয়ে চোখের জলে সর্পদেবীর মূর্তি বিসর্জন দেয় পানিতে। তবে ভক্তদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা সব ধরনের অকল্যাণ দূর হয়ে পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মনসা পূজা। এই পূজা উপলক্ষ্যে সব বয়সী নারী পুরুষ পদ্মপুরাণ পাঠ সহ ধর্মীয় গান বাজনা পরিবেশন করেন। পাশাপাশি সিঁদুর ও রংয়ের খেলায় মেতে উঠে। গতকাল মনসা দেবীর পূজা শেষে আজ বিসর্জনের সময় ঢাক, শঙ্খ, ঘন্টা, কাসর বাজিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে দেবীকে বিদায় জানান। তদুপরি আমরা বিশ্ব শান্তির মঙ্গল কামনার জন্য মা মনসার নিকট আরাধনা করি এমনটাই জানান পূজারী ও ভক্তবৃন্দ।
এব্যাপারে শিক্ষক স্মৃতিকণা বৈষ্ণব বলেন, আমরা প্রতি বছর সর্পদেবী মা মনসা দেবীর পূজা করে থাকি। সবার মঙ্গলার্থে সাপের দংশন থেকে মুক্তির জন্য আনরা মা মনসার কাছে প্রার্থনা করি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ইকে-০৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.