ছবি: সংগৃহিত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে মো. তাজ উদ্দিন তাজুকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়, অগঠনতান্ত্রিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে অবিলম্বে তা পুনর্বিবেচনা এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোডের অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি তুলে ধরেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও ত্যাগ লিখিত বক্তব্যে মো. তাজ উদ্দিন তাজু উল্লেখ করেন যে, ২০০৬ সালে বিএনপির প্রয়াত নেতা ও তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম এ সাইফুর রহমানের হাত ধরে তিনি দলটিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির দুইবার সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি স্বাক্ষর ক্ষমতাসম্পন্ন যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
দলের দুর্দিনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি ‘মিথ্যা ও গায়েবি’ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসব মামলায় তাঁকে প্রায় ৭২০ দিন কারাভোগ করতে হয়। এছাড়া ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিলেট আগমন উপলক্ষে আয়োজিত স্বাগত মিছিলে পুলিশের হামলায় তার ডান পা ভেঙে যায় বলেও তিনি দাবি করেন।
অব্যাহতির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাজ উদ্দিনের অভিযোগ, গত ১৩ আগস্ট তাকে বাদ দিয়েই শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জেলা বিএনপির কাছে সুপারিশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন এবং সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে কোনো ধরনের শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, গত ৮-৯ মাস ধরে তাঁকে দলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি মৌখিক ও লিখিতভাবে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
স্থানীয় রাজনীতি ও স্বার্থের সংঘাত তাজ উদ্দিনের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় কিছু বিষয় এবং ব্যক্তিগত আর্থিক দেনা-পাওনা নিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। এরপর থেকেই তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। তাকে সরিয়ে দিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় কাউন্সিল ছাড়া ‘পকেট কমিটি’ গঠনের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মো. তাজ উদ্দিন তাজু নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করেন অব্যাহতির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দাবিগুলো হল, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা। দলের গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করে নতুন কমিটি গঠন ইত্যাদি।
তিনি বিষয়টি বিবেচনার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা সেলিম মাহমুদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাইফুল/ইকে-০৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.