প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:০৩ (বুধবার)
এবার ফিফা নেতৃত্বের পরিবর্তনের ডাক খেলোয়াড়দের

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন বর্তমান ও সাবেক ফুটবলাররা। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
 

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকেল সিলভেস্ত্রে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ফিফা নেতৃত্বের সমালোচনা করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সেই বার্তাটি পুনঃশেয়ার করেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বর্তমান তারকা লুসি ব্রোঞ্জ এবং সাবেক গোলরক্ষক ডেভিড জেমস।

ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপের তথ্য অনুযায়ী, সিলভেস্ত্রের ফরাসি সতীর্থ ও আরসেনাল কিংবদন্তি ইমানুয়েল পেতিত, দিদিয়ের দ্রগবা এবং রবার্ট পিরেসও এই বিবৃতিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

ফিফার ‘প্লেয়ার ভয়েস প্যানেল’-এর সদস্য সিলভেস্ত্রে তার শেয়ার করা বিবৃতিতে লেখেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মতামত ও স্বার্থ উপেক্ষা করেই সব বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে- অথচ এই ভক্তরাই ফুটবলের প্রাণ।

তিনি আরও লেখেন, এখন পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। বর্তমান নেতৃত্বের ক্ষমতার মোহ এতটাই বেড়েছে যে, সংস্থার নিজস্ব স্বার্থ আর ফুটবলের আসল কল্যাণের মধ্যকার পার্থক্য তারা ভুলে গেছে। এবার থামার সময় এসেছে।
 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফিফায় এমন অনেকেই আছেন যারা পুনরায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে চান। তবে নতুন কোনো যুগের সূচনা করতে হলে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। ফুটবলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে। যারা মাঠে ঘাম ঝরান আর যারা গ্যালারিতে বসে সমর্থন জানান- ফুটবলের ভবিষ্যৎ রূপায়ণে তাদের প্রকৃত কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

২০১৬ সালে ফিফা সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফুটবলাঙ্গনে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেন তিনি, যার মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহের কথা বলা হয়েছিল। মূলত এই পদক্ষেপের পরেই তার পদত্যাগের দাবি তীব্র হয়ে ওঠে।

বিবৃতিতে সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ করা না হলেও, কয়েক সপ্তাহ আগেই বিশ্ব ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো (FIFPRO) প্রস্তাবিত এই উদ্যোগকে ‘সভাপতি পদের ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।
 

সে সময় ফিফপ্রো এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং সভাপতির ক্ষমতার চরম অপব্যবহার। ওই প্রস্তাব তুলে নেওয়ায় হয়তো একটি অপূরণীয় ক্ষতি এড়ানো গেছে, তবে যে বিশ্বস্ততা ভেঙেছে তা ফিরে আসেনি। এই হারানো আস্থা কেবল সুন্দর কথার বিবৃতি, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা বা প্রক্রিয়ার উন্নতির আশ্বাসে ফেরানো সম্ভব নয়।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৬