নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড। বিবিসি ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা বা ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী এসব পর্যটক ও ভ্রমণকারীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নেপাল ও চীনের উভয় পাশে ব্যাপক উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়েছে। নিখোঁজদের অবস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিখোঁজদের মধ্যে নেপাল, ভারত, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিক রয়েছেন। তবে অনেকের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলায় এখন পর্যন্ত আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যার পানিতে পুলিশ স্টেশন, কাস্টমস অফিস এবং বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ি ভেসে গেছে। আরও অনেকে নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং বন্দরের কাছে ভূমিধস আঘাত হেনেছে। তিব্বত নামে পরিচিত এই অঞ্চলটির গিরং বন্দর নেপাল ও চীনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থল যোগাযোগপথ।
দুর্যোগের কারণে চীনের অংশে বন্দরের দিকে যাওয়ার সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সিনহুয়া। সেখানেও কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের চিতওয়ান জেলা পর্যন্ত নদীর নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন দল মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন।
নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র শৈলেন্দ্র থাপা জানিয়েছেন, ভোতে কোশি নদীর উজানে কোনো হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ার (আউটবার্স্ট) কারণে এই বন্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়ে থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই অঞ্চল ট্রেকিং করতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। এটি নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেকিং গন্তব্য। এছাড়া চীনের মাউন্ট কৈলাস ও মানস সরোবরের পথে যাতায়াতকারী অনেক ভ্রমণকারীও এই পথ ব্যবহার করেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১২
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.