প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০০ (শুক্রবার)
সিলেটের নতুন যে দায়িত্ব পেলেন মুক্তাদির-আরিফ ও গউছ

ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।

দেশের ৬৪ জেলায় সরকারের কার্যক্রম তদারকি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয় জোরদারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের নতুন দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এই ধারাবাহিকতায় সিলেট বিভাগের চার জেলায়ও দায়িত্ব পেয়েছেন দুই মন্ত্রী ও হুইপসহ তিনজন। এর মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে মৌলভীবাজার এবং মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব বণ্টনের এ তথ্য জানানো হয়।

 

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরোনো অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপে পরামর্শ দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন তারা।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তা লুটপাট করা হয়েছে। লুট করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্য অংশ দেশের ভেতরে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

এ অবস্থায় জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর, নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গা এবং খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন মৌলভীবাজারের দায়িত্ব। মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা, আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ, সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

শামা ওবায়েদ ইসলাম পেয়েছেন মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের দায়িত্ব। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ, আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিনকে ঢাকা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল, ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব পেয়েছেন।

 

এ ছাড়া মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ, মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ, মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার সরকারি কার্যক্রমে সমন্বয় ও তদারকির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন তারা।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৯