ছবি: সংগৃহিত
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ঘিলাতৈল গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ ও সাবেক ইউপি সদস্য পংকি মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে থানার ওসিসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ইউপি সদস্য মনসুর আহমেদের দাবি, সংঘর্ষে প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ঘিলাতৈল এলাকায় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। ইউপি সদস্য মনসুর আহমেদের দাবি, প্রায় ১০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় পথচারীসহ প্রায় ১৮ জন আহত হন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।
পুলিশ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনে কাউকে ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং কোনো পক্ষকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে গ্রেপ্তারের সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু আধিপত্য বিস্তার নয়, মানবপাচার, চোরাচালান ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেও দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের দাবি, ঘিলাতৈলকে কেন্দ্র করে চোরাচালানের একটি কথিত রুট গড়ে উঠেছে। এ রুটের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ‘নোয়াখালী-সিলেট’ পরিচয়কে সামনে এনে সামাজিক বিভক্তি তৈরির চেষ্টার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
বর্তমান ইউপি সদস্য মনসুর আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক মাস ধরে ঘিলাতৈল এলাকায় মানবপাচার ও চোরাচালান বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার যুবসমাজ এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করছিলেন। বিশেষ করে মুন্না এ বিষয়ে ভূমিকা রাখায় বেন্ডেজ করিম ও তাঁর ভাই সাবেক ইউপি সদস্য পংকি মিয়া এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মনসুর আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার তিনি বাড়ি ফেরার সময় পথিমধ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে আটকে মারধর করেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২৫ জন আহত এবং ১০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ ও দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহারের আহ্বানে শুক্রবার বিকেলে একটি বৈঠক হওয়ার কথা।
এ ব্যাপারে জানতে সাবেক ইউপি সদস্য পংকি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এ সময় তিনিও আহত হন। দুই পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরপর দুই দিনে একই এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
এলাকাবাসী সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মানবপাচার, চোরাচালান ও অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সংঘর্ষে জড়িতদের পরিচয় বিবেচনা না করে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ঘিলাতৈলে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাহিদ/ইকে-০১
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.