ছবি: সিলেট ভিউ।
চিরাচরিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানের বিপরীতে এক ভিন্ন আঙ্গিকে প্রণবকান্তি দেবের ‘জানা পথে অজানা প্রান্তরে’ গ্রন্থের পাঠ ও পাঠ প্রতিক্রিয়া উদযাপিত হলো। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ উদযাপনে সিলেটের বিভিন্ন প্রজন্মের পাঠক-শিক্ষার্থী,শিক্ষক,লেখক ও গবেষক অংশ নেন।
বইটির নিবিড় পাঠ শেষে আলোচনায় তারা অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, প্রণবকান্তি দেবের এই গ্রন্থ একই সঙ্গে ভ্রমণ, স্মৃতি, আত্মঅন্বেষণ, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানচর্চার দলিল। বইটির প্রকৃত তাৎপর্য ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রমে নয়, বরং একজন শিক্ষকের দৃষ্টির ক্রমবিস্তার এবং মননের ক্রমপরিণতিতে। বইটির পাঠ উদযাপন করে প্রতিক্রিয়ায় বক্তারা বলেন, ‘জানা পথে অজানা প্রান্তরে’ মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, বরং ‘নীতি ও নন্দনের সাথে দিনমান কাটানোর’ এক পরম ব্রত। আমরা আসলে কেউ একা বা ক্ষুদ্র কোনো সত্তা নই। আমরা সবসময়ই এক বিশাল, প্রকাণ্ড বৈশ্বিক জ্ঞানযজ্ঞের অংশ; কিন্তু আমরা অধিকাংশ সময়ই নিজেদের একটি সংকীর্ণ গণ্ডির ভেতরে আটকে রাখি। এ বই সেই বৃত্তাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করে।
পাঠ প্রতিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা বলেন, বইটিতে প্রচুর আধুনিক টিচিং টার্মিনোলজির খোঁজ পাওয়া যায়, যা আমাদের পেশাগত চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে। তারা বলেন, শিক্ষকতা পেশায় আসা মানেই যে নিজের পড়াশোনা শেষ এবং এখন শুধু ক্লাসে গিয়ে জ্ঞান বিলিয়ে দেওয়া—এই ভুল ধারণাটিকে লেখক ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। বরং শিক্ষকের কাজ হলো জ্ঞানের আরও গভীর ও বৈচিত্র্যময় জগতে প্রতিনিয়ত ডুব দেওয়া।
তারা আরও বলেন, গ্রন্থটি শিক্ষকতা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে- শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়ন কি কেবল প্রশিক্ষণ বা ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? লেখকের অভিজ্ঞতা তার উত্তর দেয় ভিন্নভাবে। তাঁর কাছে শেখা একটি চলমান প্রক্রিয়া; সম্মেলন, সহকর্মীর সঙ্গে আলাপ, নতুন বই, নতুন শিক্ষাপদ্ধতি, এমনকি অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎও শিক্ষার উপকরণ। এই উপলব্ধিই গ্রন্থটিকে একটি আত্মজৈবনিক ভ্রমণ- দলিলের মর্যাদা দেয়। আলোচকরা ‘জানা পথে অজানা প্রান্তরে’ বইটিকে প্রতিটি আত্মসচেতন শিক্ষকের জন্য এক অনন্য দর্পণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচার্স এসোসিয়েশন (বেলটা), সিলেট চ্যাপ্টার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আমেরিকান কর্ণার, সিলেট মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এবং বেলটার প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. আহমেদ বশির, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রখ্যাত শিক্ষক,সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. শফিউল আলম, আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি,চট্রগ্রামের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বেলটার জেনারেল সেক্রেটারি ড. মুহিব উল্ল্যাহ, লেখক ও গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, কবি ও সম্পাদক সুমন বনিক, লেখক ও গবেষক পার্থ তালুকদার এবং শিক্ষক ও সাহিত্য-সংস্কৃতি সংগঠক ঈশিতা ঘোষ চৌধুরী।
বেলটার জীবন সদস্য আশরাফুল ইসলাম অনি নির্মিত বই পরিচিতিমূলক একটি ভিডিও প্রর্দশনীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেলটা, সিলেট চ্যাপ্টারের কোষাধ্যক্ষ এবং দক্ষিণ সুরমা সরকারী কলেজের প্রভাষক সুমন রায়। প্রকাশকের বক্তব্য রাখেন অভ্র প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী লেখক এবং সাংবাদিক ও গবেষক অপূর্ব শর্মা।
বেলটা সদস্য জাহিদা খানমের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ‘জানা পথে অজানা প্রান্তরে’ বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জিস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর রাজারাম পাল চৌধুরী, সিলেট সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্রী বিধান চক্রবর্তী, আমেরিকান কর্ণার সিলেটের কো অর্ডিনেটর ফাবিহা তাসনীম, শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী ভট্রাচার্য্য, শ্রেয়সী দত্ত এবং হৃদ্যিক দেব পুণ্য। লেখক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রণবকান্তি দেব।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন, বেলটা সিলেট চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি সুলতান আহমদ। আড়াইঘন্টা ব্যাপী ব্যাতিক্রমী এ আয়োজন রূপ নেয় এক আনন্দ পাঠ উৎসবে। বইটির নানা দিক নিয়ে ভালো লাগা এবং সীমাবদ্ধতার তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারী বক্তারা। ‘জানা পথে অজানা প্রান্তরে’-বইটির বার্তা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি এবং জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৩
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.