প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০০ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে যে কারণে মাদরাসায় শি*শুদের ব লা ৎ কা র করতেন শিক্ষক

ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স ও এআই।

সিলেটে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে ফয়জুল হক নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে জৈন্তাপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে তাকে গ্রেফতার করে সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশ। পরে সকাল আনুমানিক ১১টায় গ্রেফতারকৃত ওই শিক্ষককে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

গ্রেফতাকৃত শিক্ষক ফয়জুল হক সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। তার বিরুদ্ধে ওই মাদরাসার হিফজ শাখায় পড়ুয়া ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, শিক্ষক ফয়জুল হক সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। ওই মাদরাসার হিফজ শাখায় পড়ুয়া ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। নিপীড়নের শিকার শিশু দুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা থেকে ফয়জুল হককে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মাদরাসা থেকে পালিয়ে জৈন্তাপুরে চলে যান। তার বাড়িও ওই উপজেলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম সিলেটভিউকে বলেন, ‘সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার এক মাদরাসার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার পর অভিযান দিয়ে জৈন্তাপুর থেকে শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয় এবং আজ সকালে তাকে আদালতে তোলা হয়। আদালতে ওই শিক্ষক বিচারকের সামনে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই সাথে নিপীড়নের শিকার শিশুরাও বিচারকের কাছে তাদের জবানবন্দি দেন।’

 

ওই দুই শিশুর পরিবারের বরাত দিয়ে উপ-কমিশনার জানান, সম্প্রতি তারা মাদরাসা থেকে বাড়িতে ফিরে আর সেখানে যেতে চাইছিল না। অভিভাবকরা বিভিন্নভাবে বোঝানোর পাশাপাশি মারধর করেও তাদের মাদরাসায় পাঠাতে পারেননি। একপর্যায়ে শিশু দুটি অভিভাবকদের কাছে জানায়, প্রতিরাতে তাদের শিক্ষক ফয়জুল হকের ঘরে যেতে হতো। সেখানে না গেলে তাদের মারধর করা হতো। ঘরে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হতো বলেও তারা অভিযোগ করে।

 

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক বলাৎকারের কথা স্বীকার করেছেন। শিশুদের সাথে এসব খারাপ কাজ না করে আরেকটি বিয়ে করেন না কেন? পুলিশের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক ফয়জুল জানান, ‘তাঁর মহিলাদের আমার ভালো লাগে না, তাই তিনি শিশুদের সাথে এই আচরণ করেন’।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-১১