প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৭ (শনিবার)
মৌলভীবাজারে বসতবাড়ি ও চা বাগানে বি*ষ*ধ*র সাপের হা*না, আ ত ঙ্ক

পাহাড়, টিলা ও চা-বাগান ঘেরা মৌলভীবাজার জেলার মানুষ ও বন্যপ্রাণীর বসতি কাছাকাছি হওয়ায় লোকালয়ে সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
 

গত কয়েক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি ও চা-বাগানে বিষধর সাপের হানা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড় কাটা, জঙ্গল ধ্বংস এবং অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়নের ফলে সাপের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে সাপের গর্তে পানি জমে যাওয়া এবং এটি প্রজনন ঋতু হওয়ায় খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সাপ লোকালয়ে চলে আসছে। বসতবাড়ির আশেপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং ইঁদুর ও ব্যাঙের উপদ্রবও সাপকে লোকালয়ে আকর্ষণ করছে।
 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া চা বাগানে চা পাতা তোলার সময়  চা শ্রমিকরা হঠাৎ ঝোপের মধ্যে একটি বিশাল আকৃতির বিষধর সাপ দেখতে পান তারা। সাপটিকে দেখে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে তৎক্ষণাৎ সব শ্রমিক কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। পরবর্তীতে বিষয়টি বাগানেরকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন’-এ খবর দেন। সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল দেখতে পান এবং শনাক্ত করেন যে, এটি একটি প্রাণঘাতী বিষধর ‘খৈয়া গোখরা’ সাপ। পরিবেশকর্মীরা সতর্কতার সাথে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারের পর সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে কমলগঞ্জ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে জাপান প্রবাসী মুজাহিদ আলী বসতঘরের সিঁড়ির নিচ থেকে বিষধর প্রজাতির পাঁচটি মনোক্লেড কোবরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। একসঙ্গে একাধিক সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিঁড়ির নিচে থাকা সাপগুলো শনাক্ত করে একে একে পাঁচটি মনোক্লেড কোবরা সাপের বাচ্চা নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

গত ২৮ জুলাই বুধবার রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকা থেকে বিরল প্রজাতির একটি সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক সাপটিকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।

গত মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার জাগছড়া চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে চা শ্রমিকরা বাগানে কাজ করার সময় ঝোপের মধ্যে বিশাল একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা দ্রুত কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। পরে ওই বাগানের বাবু সেলিম মিয়া বিষয়টি বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে জানান।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, রাজদীপ দেব দীপ এবং বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন। অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৩০ কেজি।
 

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, “বসতবাড়িতে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা না করে দ্রুত বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নেওয়া উচিত। এতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীও রক্ষা করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে সাপের গর্তে পানি ঢুকে গেলে বা তীব্র গরমে শীতল জায়গার খোঁজে সাপ প্রায়ই লোকালয়ে বা মানুষের ঘরে আশ্রয় নেয়। এই পরিস্থিতি মানুষের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি করলেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই বিপদ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাইফুল/এসডি-০১