প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০০ (শনিবার)
ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় নতুন নিয়মের ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্র

বৈধ অভিবাসন নিশ্চিতে কড়াকড়ি আরোপের মধ্যে কর্মী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা বিদেশীদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মটি কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য বর্তমানে থাকা ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অতিরিক্ত সময়সীমা বাতিল হয়ে যাবে।
 

এতে চাকরি হারানোর পর দক্ষ বিদেশী নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এ ঘোষণা দেন। এতে ২০১৭ সালের একটি নিয়ম বাতিল করার পরিকল্পনা করছে বলে উল্লেখ করেছেন। ওই নিয়মের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দক্ষ কর্মী ভিসাধারী অভিবাসীরা চাকরি হারানোর পরও দুই মাস যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেতেন। যাতে তারা দেশটিতে বৈধভাবে থাকার অন্য কোনো উপায় খুঁজতে পারেন অথবা ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন।
 

বর্তমানে যেসব ভিসার ক্ষেত্রে এই ৬০ দিনের অতিরিক্ত সময়সীমার সুবিধা পাওয়া যায়, তার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এইচ-১বি ভিসা। তবে নতুন প্রস্তাবটি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে, যারা বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বৈধ অভিবাসন সীমিত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি। তার প্রশাসন দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসার ফিও বাড়িয়েছে এবং সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে মার্কিন মিশনগুলোতে অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, যাতে একটি নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যায়।

 

ডিএইচএস-এর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে, তবে এর ফলে চাকরিগুলো মার্কিন কর্মীদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে দেশ ত্যাগকারী অভিবাসী কর্মীরা পুনরায় আবেদনের সুযোগ পেতে পারেন যদি তাদের নিয়োগকর্তা তাদের জন্য নতুন করে আবেদন (পিটিশন) করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ডিএইচএস ধারণা করছে কোম্পানিগুলো হয় সমমানের যোগ্যতাসম্পন্ন মার্কিন কর্মীদের একই চাকরি প্রস্তাব করবে অথবা তাদের কর্মীসংক্রান্ত চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ‘আই-১২৯’ পিটিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেবে। ২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময়সীমা বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে অন্য কোনো চাকরি খোঁজার অথবা দেশ ছাড়ার আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয়।

ইউসি ডেভিস স্কুল অফ ল-এর অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিন বলেন, অনেক এইচ-১বি কর্মী বছরের পর বছর ধরে এখানে আছেন এবং তারা ও তাদের পরিবার স্থানীয় সমাজে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। চাকরি পরিবর্তনের কারণে তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করার কোনো যৌক্তিক কারণ আমি দেখি না।

 

১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক প্রবর্তিত এইচ-১বি ভিসাগুলো ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী বা প্রতিভা সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিসাগুলোর মাধ্যমে কোম্পানিগুলো এমন সব পদে কর্মী নিয়োগ করতে পারে, যেখানে অনেক সময় যোগ্য মার্কিন কর্মীর অভাব দেখা যায়। ডেলয়েট, পিডব্লিউসি এবং আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং-এর মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রি-এর মতো আউটসোর্সিং ফার্মগুলো এইচ-১বি ভিসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বা স্পন্সর হিসেবে কাজ করে।

ব্যবসায়িক অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আইনি প্রতিষ্ঠান বেরার্দি ইমিগ্রেশন ল’-এর আইনজীবীরা বলেছেন, এই পদক্ষেপটি বিদেশি কর্মীদের ছাঁটাই এবং তাদের কর্মসংস্থান সমাপ্তি বা অফবোর্ডিং প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য এইচআর বা মানবসম্পদ বিভাগের হাতে থাকা সময়সীমাকে ব্যাপকভাবে সংকুচিত করে ফেলবে।

 

অভিবাসন বিষয়ক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ-এর প্রেসিডেন্ট টড শুল্টে বলেন, মনে হচ্ছে বর্তমান প্রশাসন প্রতি সপ্তাহেই এমন কোনো নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করছে যা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল কোম্পানি ও কমিউনিটিগুলোর জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।

এই পরিবর্তনটি কার্যকর হলে তা ই-১ আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ভিসা, ই-২ বাণিজ্যিক যানবাহন চালক ভিসা, আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে কর্মরত নির্বাহী বা ব্যবস্থাপকদের জন্য এল-১ স্বল্পমেয়াদী কাজের ভিসা, বিজ্ঞান-খেলাধুলা বা শিল্পকলায় ‘অসাধারণ প্রতিভার’ অধিকারী ব্যক্তিদের জন্য ও-১ ভিসা এবং টিএন পেশাজীবী কর্মীদের ভিসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

 

এছাড়া এটি সিঙ্গাপুর ও চিলির এইচ-১বি১ দক্ষ কর্মী ভিসা এবং অস্ট্রেলিয়ার ই-৩ বিশেষায়িত কর্মী ভিসা ধারকদের ওপরও প্রভাব ফেলবে। চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার আগে এই নিয়মটির বিষয়ে দুই মাসব্যাপী জনমতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলবে।

প্রস্তাবিত এই নিয়মের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, অতিরিক্ত সময়সীমার সুবিধাটি তুলে নিলে প্রশাসনিক ব্যয় কমবে। নিয়মটি চূড়ান্ত হলে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ অনুমতি না থাকলে অভিবাসীদের অবশ্যই দেশটি ত্যাগ করতে হবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১০