ছবি : এ আই দিয়ে তৈরি প্রতীকী
তিন সংকটে আটকে আছে সিলেটের যোগাযোগব্যবস্থা। রেলপথে জরাজীর্ণ লাইন, দুর্বল ইঞ্জিন ও টিকেট কালোবাজারি; মহাসড়কে গতিহীন উন্নয়ন কাজ, খানাখন্দ ও অসহনীয় যানজট; আর আকাশপথে আকাশছোঁয়া ভাড়া। বেহাল এই যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে যেন মুক্তি নেই সিলেটবাসীর। আন্দোলন করেও মিলেনি সুফল। তাই ভোগান্তিকে সঙ্গী করেই চলতে হচ্ছে সিলেটের মানুষকে।
রেলকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যোগাযোগমাধ্যম মনে করলেও সিলেট-আখাউড়া সেকশন যাত্রীদের সেই ভরসা কেড়ে নিচ্ছে। প্রায় ১৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। লাইন ও অবকাঠামোর দুর্বলতার পাশাপাশি পুরোনো ইঞ্জিন ও কোচের কারণে এ রুটে প্রায়ই ট্রেন বিকলের ঘটনা ঘটছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সিলেট-আখাউড়া সেকশনের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ক্লিপ, হুক, নাট-বল্টু খুলে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি সেতু নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। ফলে ট্রেনকে চলতে হচ্ছে ধীরগতিতে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাচ্ছে যাত্রার সময়। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ইঞ্জিন বিকল ও শিডিউল বিপর্যয়।
ধীরগতির আরেকটি কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিনের পুরনো দুর্বল ইঞ্জিন। শুধু নিরাপত্তা নয়, টিকিট নিয়েও চরম সংকটে ট্রেনের যাত্রীরা। অনলাইনে ১০ দিন আগে ছাড়ার পর ১০ মিনিটের মধ্যে সব টিকেট হাওয়া হয়ে যায়। টিকেট কালোবাজারির সাথে খোদ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা জড়িত। গত সপ্তাহে কালোবাজারির অভিযোগে আরএনবি’র দুই সদস্যকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আটক করেন।
রেলপথের চেয়ে সড়কপথের অবস্থা আরও বেহাল। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা অবস্থা, খানাখন্দ, সংকীর্ণতা ও যানজটের কারণে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও সড়কের অবস্থা খারাপ, কোথাও ছয় লেনে সম্প্রসারণেরকাজ ও যানবাহনের চাপ- সব মিলিয়ে এখন ঢাকা যেতে সময় লাগছে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। অথচ একসময় সিলেট থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগত ৫-৬ ঘন্টা।
আকাশ পথে সময়ের ভোগান্তি না থাকলেও ভাড়া গুনতে হয় আকাশসম। শুক্র ও শনিবার হলে সিলেট-ঢাকা রুটের ভাড়া গুনতে হয় ১০-১২ হাজার টাকা। বাকিদিনগুলোতেও ৬ হাজার টাকা নিচে টিকেট পাওয়া দুঃসাধ্য।
সিলেটের বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিবাদে নাগরিক সমাজ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছেন। অন্তর্বর্তীসরকারের সময়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতারাও এসব আন্দোলনে অংশ নিয়ে একাত্মতা পোষন করেছেন। বর্তমান প্রবাসী কল্যানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটবাসীকে সাথে নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জনদুর্ভোগের এই দাবি অনেকটা চাপা পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সিলেট থেকে বের হতে গেলেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনের কাজে গতি বাড়ানো, খানাখন্দ সংস্কার, রেললাইন সংস্কার, ডাবল লাইন স্থাপন ও রেলের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিমানভাড়াকে সিন্ডিকেট মুক্ত করা জরুরি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.