প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪০ (মঙ্গলবার)
ময়লা দেখলেই ছুটে আসেন জুয়েল, লাগান সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড

সিলেট নগরের কাজলশাহ এলাকার ইসকন যুগলটিলা মন্দিরের চারপাশের রাস্তা পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একটি দল। দলটির টিম লিডার বা সুপারভাইজার জুয়েল আহমদ।

প্রতিদিন তাঁর নেতৃত্বে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মন্দিরের চারপাশের রাস্তা পরিষ্কার করেন। কাজ শেষ হওয়ার পর মন্দির কর্তৃপক্ষকে ফোন করে জানান জুয়েল আহমদ। কখনো আবার পরিষ্কার করা জায়গার ভিডিও ফুটেজও পাঠান। নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁর এই আন্তরিকতা মন্দির কর্তৃপক্ষের নজর কেড়েছে।

তবে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঘটে একটু ভিন্ন ঘটনা।

সকালে খবর পাওয়া যায়, মন্দিরের ভাতালিয়া সড়কে মন্দিরের দেয়ালঘেঁষা স্থানে কে বা কারা বর্জ্য ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জুয়েল আহমদ। তাঁর টিম আগুন নেভানোর পাশাপাশি সেখানে পড়ে থাকা বর্জ্য সরিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করে।

কাজ শেষ করার পর জুয়েল আহমদ উপলব্ধি করেন, শুধু ময়লা পরিষ্কার করলেই হবে না,মানুষকে সচেতন করাও প্রয়োজন। তাই ওই স্থানে একটি সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড লাগানোর উদ্যোগ নেন তিনি।সাইনবোর্ডে লেখা- ‘আপনাকেই বলছি, এখানে ময়লা ফেলা নিষেধ।’

ছোট্ট এই বার্তাটির মাধ্যমে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি যেন একটি সরাসরি আহ্বান জানানো হয়েছে-নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকুন।

সোমবার দুপুরে জুয়েল আহমদ আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দা ও দোকানিকে সঙ্গে নিয়ে সাইনবোর্ডটির সামনে ছবি তোলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইসকন যুগলটিলা মন্দিরের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাস।

সিদ্ধ মাধব দাস বলেন, “আমাদের মন্দিরের চারপাশের রাস্তা পরিষ্কার রাখতে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জুয়েল আহমদ ও তাঁর টিম দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তাঁরা প্রতিদিন এসে রাস্তা পরিষ্কার করেন। কাজ শেষ হলে আমাদের জানান, কখনো ভিডিও ফুটেজও পাঠান।”

তিনি বলেন, “আগে কখনো মন্দিরের দেয়ালঘেঁষা জায়গায় এভাবে বর্জ্য ফেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা আমরা দেখিনি। আজকের বিষয়টি আমাদের জন্য কিছুটা উদ্বেগের। তবে আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। আমরা চাই, সবাই সচেতন হোন এবং মন্দিরের চারপাশসহ পুরো এলাকার পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সহযোগিতা করুন।”

সিদ্ধ মাধব দাস আরও বলেন, “খবর পাওয়ার পর জুয়েল আহমদ তাঁর টিম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভান, জায়গাটি পরিষ্কার করেন এবং পরে মানুষকে সচেতন করার জন্য সাইনবোর্ড লাগান। তাঁর এই আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীদের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব।

নগরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ প্রতিদিনের। তাঁরা ময়লা পরিষ্কার করেন, আবার অনেক সময় কিছুক্ষণ পরই সেখানে নতুন করে ময়লা জমে যায়। এই চক্রের মধ্যেও তাঁদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়।

জুয়েল আহমদও নিয়মিত সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে তাঁর উদ্যোগে শুধু রাস্তা পরিষ্কারের বিষয়টি নেই; রয়েছে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টাও।

সোমবারের ঘটনাটি যেন তারই একটি উদাহরণ।

আগুন নেভানো থেকে শুরু করে বর্জ্য পরিষ্কার, এরপর সাইনবোর্ড লাগানো এবং স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তোলা-পুরো উদ্যোগের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিশ্রম যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতাও।

ইসকন যুগলটিলা মন্দিরের দেয়ালঘেঁষা সেই স্থানে এখন দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটি সাইনবোর্ড ‘আপনাকেই বলছি, এখানে ময়লা ফেলা নিষেধ।’

হয়তো কয়েকটি শব্দ। কিন্তু পরিচ্ছন্ন একটি নগরের জন্য এর বার্তা অনেক বড়।



সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১২