প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৩ (বুধবার)
তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা: ভিসি জহিরুল হক

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের উপযোগী দক্ষতা অর্জন, সৃজনশীল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে দিনব্যাপী ‘কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৬’ ও প্রজেক্ট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।

প্রদর্শনী উদ্বোধনের পূর্বে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর জয়নুল আবেদীন চৌধুরী।

প্রভাষক মাওলানা ফয়সাল আহমেদের কুরআন তেলাওয়াত ও প্রভাষক জুই রাণী তালুকদার কর্তৃক গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সূচনা হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক প্রভাষক এস এম আবু সাইম।

শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কলেজের একাডেমিক ইনচার্জ প্রভাষক কাজী শাখাওয়াত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, প্রযুক্তির সঠিক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশ করতে হবে। প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যৌক্তিক চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাই ভবিষ্যৎ তরুণ সমাজকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে নেবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের দেশের বড় শক্তি ও সম্পদ হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা। মানব সম্পদকে যথাযতভাবে কাজে লাগিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে প্রবেশের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতা এখন আর বাড়তি কোনো গুণ নয়, বরং এটি শিক্ষা ও কর্মজীবনের অন্যতম ভিত্তি। শিক্ষার্থীদের কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, উদ্ভাবনী ধারণার মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের তৈরি ১৫টি উদ্ভাবনী প্রযুক্তিনির্ভর প্রজেক্টের প্রদর্শনী। শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ সৃজনশীল সমাধান ও ধারণা অতিথি ও শিক্ষকদের সামনে তুলে ধরেন। আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ ও সৃজনশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্পিউটেশনাল থিঙ্কিং ও উদ্ভাবনের মানসিকতা বিকাশে এ আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মত প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।



সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-২০