প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২৯ (বুধবার)
সিলেটে আরেক মামলায় ছাত্রলীগের আসামী যারা

সিলেটের জকিগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল ও সমাবেশের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 


জকিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর-০৮। এতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 


মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী বলে মামলায় দাবী করা হয়। 

 


তারা হলেন— পলাশপুরের মৃত আফতাবুর হোসেন নেতাই মিয়ার ছেলে আজহার হোসেন চৌধুরী (২৮); জকিগঞ্জ পৌরসভার বসনপুর (খলাছড়া) গ্রামের খছরুজ্জামানের ছেলে খালেদ আহমদ (২২); খাসেরার মৃত তেরা মিয়ার ছেলে আশিকুর রহমান চৌধুরী আশিক (২৮); জকিগঞ্জ পৌরসভার  আনন্দপুরের তোতা মিয়ার ছেলে নাঈম আহমেদ (২২); খাসেরার জালাল উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার তালুকদার (২৭); পুকরার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সালমান আহমদ (২৫); হাতিডহরের মৃত শরীফ উদ্দিনের ছেলে লিমন আহমদ (২৪); হাতিডহরের মুজিবুর রহমান রুফই মিয়ার ছেলে ইখতিয়ার হোসেন (২৫); উত্তর কসকনকপুরের রেদোয়ান আহমদ (২৬); কসকনকপুরের আব্দুল মন্নানের ছেলে ইমরান আহমদ (২৮); উত্তর কসকনকপুরের জাকারিয়া আহমদ স্বপনের ছেলে মহসিন আহমদ (২৫); পল্লীশ্রীর নিতেন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে নিবাশ বিশ্বাস; মাতারগ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে তানভীর আহমদ (২৫); বারগাত্তার আব্দুস সবুর লস্করের ছেলে আবিদ হোসেন লস্কর (২৪); বারঠাকুরীর ফারুক আহমদের ছেলে পিয়ার আহমদ (৩২); উত্তরকুলের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আলী আহমদ (৩৫); পলাশপুরের মৃত আফতাবুর হোসেন নেতাই মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী (৩২); তিরাশির পাখি মিয়ার ছেলে আইনুল আহমেদ (২৬); সুন্দরারচকের কবির আহমদের ছেলে জুনেদ আহমদ (২৭) এবং পীরেরচকের আব্দুস সাত্তারের ছেলে যুবলীগ নেতা শামীম আহমদ (৪২)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জকিগঞ্জের ৪ নম্বর খলাছড়া ইউনিয়নের পল্লীশ্রী বাজারের পাকা সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী সমবেত হন।

 


পুলিশের দাবি, সমবেত ব্যক্তিরা সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত করা, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, নাশকতার পরিকল্পনা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ও ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। জকিগঞ্জ পৌরসভাসহ বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের পরিকল্পনার অভিযোগও করা হয়েছে।

 


এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে এসআই মিরাজুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সকাল ৮টার দিকে পল্লীশ্রী বাজারে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সমবেত ব্যক্তিরা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

 


এ ঘটনায় মামলার এজাহারনামীয় আসামি তানভীর আহমদকে মঙ্গলবার ভোররাতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ হাসিব