ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কৃষক হাবিবুর রহমান (৪০) হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার তিলিখাই গ্রামের মৃত লতিফ মিয়ার ছেলে মো. বিল্লাল মিয়া (৩৯) এবং অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মো. মোতালেব মিয়া (৬০)।
এসআরবি-৯ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের শিকার হাবিবুর রহমান নাসিরনগরের কালিউতা এলাকার বাসিন্দা । তিনি পেশা কৃষক ছিলেন। তিনি একই গ্রামের বশির মিয়া নামের এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব যাওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছিলেন।
সে লক্ষ্যে ঢাকায় মারজান টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে রওনা হন তিনি।
এরপর থেকে নিখোঁজ হন হাবিবুর রহমান।
৩ সেপ্টেম্বর ফুফু সজিনা বেগম হাবিবুর রহমানের মুবাইলে ফোন দিলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন ধরেন।
ওই ব্যক্তি জানান, হাবিবুর মহাখালী হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাঁর চিকিৎসার জন্য ১২ হাজার টাকা প্রয়োজন। হাবিবুর রহমান সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওই ব্যক্তি জানান, হাবিবুর রহমান অসুস্থ তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হবে না। ওই দিন রাত ৯ টা ২০ মিনিটের দিকে সজিনা বেগম হাবিবুর রহমানের মুবাইলে ফোন দিলে অজ্ঞাত ব্যক্তি দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেন।
পরবর্তীতে ৭ সেপ্টেম্বর নাসিরনগরের হরিপুর এলাকার ‘সততা ইটভাটা’ সংলগ্ন নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে নিহতের স্ত্রী সেখানে যান পরে তার স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকেই এসআরবি-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে কিশোরগঞ্জের নগুয়া বটতলা মোড়সহ পৃথক দুটি স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসআরবি-৯-এর মিডিয়া অফিসার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য নাসিরনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মআস-০৭
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.