ছবি: সংগৃহিত
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঐতিহ্যবাহী হরষপুর পাঠাগারের সরকারি বরাদ্দের টাকা উত্তোলন ও ব্যয় নিয়ে পাঠাগার কমিটির দুই নেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ উত্তোলনের পরও সংশ্লিষ্ট কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থের সুষ্ঠু তদন্ত ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের মুখে রয়েছেন ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর পাঠাগার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি তৌহিদ হোসেন এবং প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ঠাকুর।
তৌহিদ হোসেন স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং আবু তাহের ঠাকুর মাধবপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
জানা যায়, মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের আওতায় গত জুন-জুলাইয়ের বাজেটে ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর পাঠাগারের জন্য টিআর/কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের প্রথম ধাপে কাজের জন্য অর্থ উত্তোলন করা হলেও পুরো কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তী ধাপে ৫৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও ওই অর্থের বিপরীতে কোনো কাজ হয়নি অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প কমিটির সভাপতি তৌহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ঠাকুরের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে তৌহিদ হোসেন অভিযোগ করেন, প্রকল্পের ৫৭ হাজার টাকা আবু তাহের ঠাকুরের কাছে রয়েছে এবং তিনি ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একই সঙ্গে তাকে জিম্মি করে টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবু তাহের ঠাকুর বলেন, তিনি প্রকল্পের কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি। প্রকল্প কমিটিতে তাকে নামমাত্র সাধারণ সম্পাদক করা হলেও অর্থ উত্তোলন বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তার ছিল না। তার দাবি, তৌহিদ হোসেনই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন। এ বিষয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরবেন বলে জানান।
অন্যদিকে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। ৫৭ হাজার টাকা আবু তাহেরের কাছে রয়েছে—এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।”
মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নূর মামুন বলেন, “অর্থ আত্মসাতের ঘটনা থাকলে তদন্ত করা হবে। যতটুকু জানি, প্রথম ধাপের কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। তাদের মধ্যে একসময় মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল, আমরা সেটি সমাধান করে দিয়েছিলাম।”
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তৎকালীন ইউএনও, বর্তমানে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনিও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সরকারি বরাদ্দের অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/ইকে-০৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.