দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান নতুন বোলার খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘রবি বোলার হান্ট’-এর ট্রায়াল পর্ব সিলেট বিভাগ থেকে শুরু হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ট্রায়ালে সিলেট অঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার বোলার অংশ নেন। তাদের মধ্য থেকে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ১৬ জনকে পরবর্তী ধাপের জন্য বাছাই করা হয়। বাছাই হওয়া বোলাররা ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
রবির ‘পারবে তুমিও’ মূলমন্ত্রে দেশব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী ট্রায়াল শেষে নির্বাচিত বোলারদের গলায় মেডেল পরিয়ে দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট অঞ্চল থেকে অতীতে জাতীয় পর্যায়ে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে এসেছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সিলেটের দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে। এবারের বোলার হান্টের মাধ্যমে সিলেট থেকেও নতুন প্রতিভাবান বোলার উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, সিলেটের যে বোলাররা আজ বাছাই হয়েছেন তারা ঢাকায় অনুষ্ঠেয় পরবর্তী ক্যাম্পে নিজেদের পারফরম্যান্স তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। সেখানে ভালো পারফর্ম করে পর্যায়ক্রমে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের জায়গা করে নেবেন—এটাই প্রত্যাশা।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান বোলার খুঁজে বের করার এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে তিনি রবি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে রবির যে সহযোগিতামূলক পথচলা রয়েছে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তা আরও কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দিতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেট আরও সমৃদ্ধ হবে। সিলেট থেকে বাছাই হওয়া ১৬ জন বোলারের সফলতা কামনা করে তিনি তাদের পরবর্তী ধাপে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের আহ্বান জানান।
এবারের বোলার হান্টে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে রংপুর ও সিলেট বিভাগ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সিলেট অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার বোলার নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার বোলার রোববারের ট্রায়ালে অংশ নেন।
সিলেট দিয়ে শুরু হওয়া ট্রায়াল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দেশের সাতটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। আগের আয়োজনগুলোতে আলাদাভাবে পেসার ও স্পিনার বাছাই করা হলেও এবারের ‘রবি বোলার হান্ট’-এ পেসার ও স্পিনার—উভয় ধরনের বোলারকে একই প্ল্যাটফর্মে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ২০১৬ সালের ‘রবি ফাস্ট বোলার হান্ট’ থেকে উঠে এসেছিলেন ইবাদত হোসেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। একইভাবে ২০১৭ সালের ‘রবি স্পিনার হান্ট’ থেকে উঠে আসেন রিশাদ হোসেন, যিনি পরবর্তীতে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করাই এবারের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। সিলেট থেকে শুরু হওয়া এই দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনাময় নতুন বোলার উঠে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু ও রবির কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর আশরাফ হোসেন আরমান, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব রেজাউল করিম নাচন, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা মওদুদসহ সংশ্লিষ্টরা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/আশিক-১২
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.