মৌলভীবাজারের রাজনগরে রিপন আহমদ (৩০) নামে এক যুবদল নেতাকে আটক করে সিএনজি চুরির মামলায় আদালতে পাঠানোর প্রতিবাদে রাজনগর থানা ঘেরাও করেছে যুবদল-ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
এ সময় থানার সামনে মৌলভীবাজার-রাজনগর- সিলেট ও মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলন ঘটনাস্থলে আসেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আটক কর্মীকে চাড়িয়ে আনার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে দেয়া হয়।
.gif)
পুলিশ ও বিএনপি সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজনগর উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করে রাজনগর উপজেলা বিএনপি। টেংরা ইউনিয়নের যুবদল নেতা ব্যবসায়ী রিপন আহমদ ও অপর এক কর্মী মিছিল শেষে যাওয়ার পথে কলেজ পয়েন্ট এলাকায় তাদেরকে একটি গাড়ি চাপা দেওয়ার অভিযোগ করেন। তারা ওই গাড়ির পিছু ধাওয়া করে রাজনগরের গোবিন্দবাটি এলাকায় গতিরোধ করে আটকান। গাড়িতে থাকা আরোহী নিজেদেরকে মৌলভীবাজারের ম্যাজিস্ট্রেট বলে পরিচয় দেন। এরপরও যুবদল নেতা রিপন তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে জানা যায়। পরে রাজনগর থানায় খবর দিলে পুলিশ টেংরা ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের মৃত আরফান মিয়ার ছেলে রিপন আহমদ (৩০) ও তার সঙ্গে থাকা একই গ্রামের মৃত সোহেল মিয়ার ছেলে রামিম আহমদ (১৮) কে আটক করে রাজনগর থানায় নিয়ে আসে। রাতে খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনগর থানায় এসে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ এতে রাজি হয়নি। পরদিন দুপুরে যুবদল নেতা রিপন আহমদ তার সঙ্গে থাকা রামিম আহমদকে গত ২০ অক্টোবর রাতে রাজনগরের মুন্সিবাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি (মৌলভীবাজার থ-১২-৮০৪২) চুরির মামলায় (মামলা নং-০১, তা- ৩-৯-২৬ ইং জিআর (১০১)) গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
এদিকে রিপন আহমদকে সিএনজি চুরির মিথ্যে অভিযোগে আদালতে পাঠানোর প্রতিবাদে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রবিবার রাত ৯টার দিকে রাজনগর থানা ঘেরাও করেন। এ সময় তারা মৌলভীবাজার-রাজনগর- সিলেট ও মৌলভীবাজার- কুলাউড়া সড়ক অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) আবুল খায়ের ও রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলন এবং অন্যান্য নেতারা রাজনগর থানায় আসেন।
পরে উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলন ও অন্যান্য নেতারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে নিজেদের কর্মীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। পরে তিনি তাদেরকে এব্যাপারে আশ্বাস দিলে বিএনপি নেতারা ফিরে যান এবং সড়ক স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরল ইসলাম সেলন বলেন, যে দূষ করবে তার শাস্থি আছে। তাই বলে একজন ভালো মানুষকে চুর বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগে আটক করতে হবে! অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে রাজনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোন মন্তব্য নেই।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের রাজনগর থানায় সাংবাদিকদের বলেন, সড়ক অবরোধের খবর শুনে আমি দ্রুত এখানে এসেছি। সিএনজি চুরির মামলায় তাকে আদালে পাঠানো উচিত হয়নি। বিষয়টি আমি বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সোহেল/এসডি-০৬
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.