কোন ভাবেই যেন সংকট কাটছে না হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কে। হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া মৌলভীবাজারগামী বাস আটকে ভাংচুর ও শ্রমিকদের উপর নির্যাতন যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়াও সবশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ৩টি বাস আটকে রাখে। এরই প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজারগামী হবিগঞ্জের সকল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে আগামী ১ অক্টোবর সকাল থেকে হবিগঞ্জ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। এসময় হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণসহ দুরপাল্লার সকল যানবাহন বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ মোটর গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন যাবত হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রোডে আমরা অত্যন্ত সুনামের সাথে বাস ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বিগত ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে হঠাৎ করে মৌলভীবাজার জেলার মালিক-শ্রমিকরা আমাদের বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার ফলে এক সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের হুইপ জি.কে গউছ এর হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয় এবং হবিগঞ্জের বাসগুলো পূর্বের ন্যায় চলাচল করার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। চলতি বছরের ১০ মে কোন প্রকার পূর্ব যোগাযোগ ব্যাতিরেকেই পুর্বের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক শ্রমিকেরা শেরপুর নামক স্থানে হবিগঞ্জের বাস আটক করে। ফলে উভয় জেলার মালিক শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হয়।”
এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে হুইপ জিকে গউছ সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন- ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন এমপি, আব্দুল মালেক এমপি, নাসের রহমান এমপি, এমরান আহমেদ এমপি, সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীসহ বিভাগীয় কমিশনার’র কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রোডে যথারীতি পূর্বের ন্যায় বাস চলাচল করবে তবে শ্রীমঙ্গল নামক স্থানে কোন স্টপেজ দিতে পারিবে না। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল করছিল। কিন্তু ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হঠাৎ করে হবিগঞ্জের ২২টি গাড়ি আটকিয়ে রাখে।
যে কারণে ওই রুটে আবারও গাড়ী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সমস্যাটি আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করার জন্য ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ঢাকাতে মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় মহাসচিব সাইফুল আলম এর সভাপতিত্বে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমঝোতা বৈঠকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির খাঁনসহ মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সমঝোতা বৈঠকে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে ১২ জুন এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রোডের গাড়ী চলাচল করবে মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তীতে মৌলভীবাজার এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের আটককৃত গাড়ীগুলো ছেড়ে দেয়।
পরবর্তীতে গত ২৪ অক্টোবর সকাল থেকে আবারও হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার গাড়ী চলাচল শুরু হলে আবারও মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের ৩টি গাড়ী আটক করে। যা এখনও পর্যন্ত আটক রয়েছে। যে কারণে ১লা অক্টোবর ভোর থেকে হবিগঞ্জ জেলায় অনিদিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ মোটর গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের বাসগুলো যেন পুর্বে সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্বিঘ্নে চলাচল করে।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমরা বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিলাম কিন্তু হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ তাদের আওয়ামী লোকজন দিয়ে শ্রীমঙ্গলে আমাদের এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাংচুর করে। এখন বেশ কয়েকজন শ্রমিক হাসপাতালে আছে। এর মধ্যে একজন আইসিইউতে রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই বাস আটকে রেখেছে। এ বিষয়ে থানায় মামলাও হয়েছে। এখন বিষয়টি সমাধান করতে হলে সবাইকে নিয়ে বসতে হবে।”
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাকির/এসডি-১১
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.