ছবি: সিলেট ভিউ।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সিলেটের বিশ্বনাথে দফায় দফায় মাইকিং করে সংগঠিত দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন এক পক্ষ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই মামলা দায়ের করা হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার পক্ষে ভূরকি গ্রামের মদরিছ আলীর পুত্র কবির আলী বাদী হয়ে ইশেকপুর গ্রামের ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ৪০/৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নং ১৭ (তাং ২৮.০৯.২০২৬ইং)।
জানা গেছে, সংঘর্ষের পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ‘ভূরকি ও ইশেকপুর’ গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় জোরদার করা হয়েছে পুলিশী টহল।
এদিকে মামলা দায়েরের পূর্বেই অভিযান পরিচালনা করে চেয়ারম্যানের উপর হামলার অভিযোগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইশেকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মস্তানের পুত্র আব্দুল মান্নান সরকার ও তাজ মিয়াকে আটক করে পুলিশ। এরপর ঘটনায় ওইদিন রাতে থানায় দায়ের করা মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে থানা পুলিশ।
কবির হোসেন ধলা মিয়ার পক্ষে থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্তরা হলেন— উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ইশেকপুর গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র ওলিউর রহমান জনি, আব্দুল মস্তানের পুত্র তাজ উদ্দিন, আব্দুল কালামের পুত্র বাচ্চু, মৃত আবরু মিয়ার পুত্র সফির মিয়া, বাদশা মিয়ার পুত্র আব্দুল গফ্ফার, আব্দুল মস্তানের পুত্র আব্দুল মান্নান সরকার, আব্দুস সালামের পুত্র সেজু, বাচ্চু মিয়ার পুত্র পারভেজ, আব্দুল মান্নানের পুত্র বাবলু, আনা মিয়া মেম্বারের পুত্র আওলাদ, আছাবরের আক্তার হোসেন, আলী হোসেন, মৃত সিরাজ উদ্দিনের পুত্র মানিক মিয়া, আব্দুল মান্নান সরকারের পুত্র মিজান, খুরশিদের পুত্র সমুজ, মৃত আলকাছ আলীর পুত্র কয়ছর, আলমাছ আলীর পুত্র আল-আমিন।
দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের ও দু’জনকে গ্রেপ্তারের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ঘটনার জের ধরে এলাকায় যাতে আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা সংগঠিত না হয় সেজন্য এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভূরকি বাজার এলাকায় ভূরকি ও ইশেকপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া’সহ উভয় পক্ষে প্রায় ৩০ জন ব্যক্তি আহত হন। চেয়ারম্যান’সহ গুরুতর আহতরা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাংশ লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে। সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে নেতারা বলেন, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে ৪৮ ঘণ্টা পর মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ’সহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো নেতাদের বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রনঞ্জয়/আশিক-১৬
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.