প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:০০ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে বিএনপি খুঁজছে একক প্রার্থী, জামায়াতের প্রস্তুতি চূড়ান্ত

ছবি : এ আই দিয়ে তৈরি প্রতীকী

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে চাঙা হয়ে উঠেছে তৃণমূলের রাজনীতি। নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সরব রয়েছেন। কেউ ছুটছেন ভোটারদের বাড়িতে, কেউ ব্যস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। আবার কেউ দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। ইউনিয়নজুড়ে চলছে গণসংযোগ, মতবিনিময় ও সমর্থন আদায়ের নানা তৎপরতা। দলীয় প্রতীকের বাইরে নির্বাচন হলেও বিএনপি ও জামায়াতে চলছে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি। 


একক প্রার্থী বাছাইয়ে সবকটি উপজেলা কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে জেলা বিএনপি। আর জামায়াত নেতারা বলছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও তাদের প্রার্থী বাছাই প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের সবকটি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন। জনমত ও সমর্থন আদায়ে তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। এলাকার প্রভাবশালী ও প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করছেন। বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অতিথি হয়ে যুবসমাজকেও আকৃষ্ট করারও চেষ্টা চলছে। অনেকে এলাকায় পোস্টার ও ফেস্টুন লাগিয়েও প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন। তবে প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তৎপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থনপ্রত্যাশী প্রার্থীরা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় অনেক প্রবাসীর নামও আলোচিত হচ্ছে।  

সূত্র জানায়, সিলেটে সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপির। প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী মাঠে তৎপর। এমতাবস্থায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলার সকল সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ এবং প্রতিটি থানা কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জনপ্রিয়তা, দুঃসময়ে দলে অবদান ও ত্যাগ বিবেচনায় একক প্রার্থী বাছাই করে জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে তালিকা পাঠাতে থানা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ প্রার্থী হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। 

দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতও বেশিরভাগ ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ইউনিয়নে দলীয় অনুমতি পেয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। 

এর বাইরে কোন কোন ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও সরব রয়েছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারাও কোন কোন ইউনিয়নে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। 

ইউপি নির্বাচন আয়োজন প্রসঙ্গে সিলেট জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুঞ্জুরুল আলম জানান, এখনো নির্বাচন সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। 

সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন জানান, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি ধাপে নির্বাচন করার প্রস্তুতি জামায়াতের রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের আচরণে মনে হচ্ছে না দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু কোন নির্বাচন হবে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করছে এবং নির্বাচনে কমিশনকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কতটুকু নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে জামায়াত সন্দিহান। 

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা, দলের প্রতি ত্যাগ ও জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী বাছাই করতে থানা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ নির্বাচন করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ