ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কি তবে শেষের পথে? ‘ইউরোপের ব্রাজিল’ খ্যাত পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই হয়তো এই মহাতারকার শেষ অধ্যায়। এক ঝামেলার মধ্য দিয়ে একটি কিংবদন্তিতুল্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হয়তো খুব সম্মানের সঙ্গে হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে রোনালদোর কর্মকাণ্ড নিয়ে এক নিবন্ধ প্রকাশ করেছে ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোলডটকম।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো কেন সেই কিংবদন্তিদের কাছ থেকে শিক্ষা নিলেন না, যারা সঠিক সময়ে সরে দাঁড়াতে পেরেছিলেন? কেন তিনি বুঝতে পারলেন না যে, পরিস্থিতি জোর করে বিদায় জানানোর আগেই নিজে থেকে সরে দাঁড়ানো অনেক বেশি সুন্দর?
কোচ ও স্বদেশী হোর্হে জেসুসের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে কঠিন সময় পার করছেন রোনালদো। অনেকেই ভেবেছিলেন, জাতীয় দলের এই শেষ পর্যায়ে জেসুসই হবেন সেই মানুষ, যিনি রোনালদোর পাশে থাকবেন এবং তাকে তার ইচ্ছামতো সুযোগ দেবেন।
যে জেসুস এক সময় রোনালদোর ফোন পেয়ে আল-নাসরে যোগ দিয়েছিলেন এবং মাঠের বাইরে সব সময় তার পক্ষে কথা বলতেন, আজ তিনিই অবস্থান নিয়েছেন বিপরীত মেরুতে।
সমস্যা হয়তো অন্য কোথাও, বিশেষ করে যখন রোনালদো নিজেই বলেছেন সময়মতো তিনি আসল সত্যটা প্রকাশ করবেন। কিন্তু একটি সত্য রোনালদোর অনেক আগেই মেনে নেওয়া উচিত ছিল। ৪১ বছর বয়সে কেউই চিরদিন দলের অপরিহার্য এক নম্বর খেলোয়াড় হয়ে থাকার নিশ্চয়তা পায় না।
রোনালদোর অহংকার: একটি ম্যাচের জন্যও বেঞ্চে বসা তার বর্ণাঢ্য ইতিহাসের প্রতি কোনো অসম্মান নয়। দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে নিজের আধিপত্য বিস্তার করা এই তারকাকে ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে একটি কঠিন সত্য মেনে নিতে হতো- সময় আর তার পক্ষে নেই।
ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে রোনালদো এক নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছেন। এই উত্তেজনা, ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া এবং সংকটের মুখে জাতীয় দলকে একা ফেলে যাওয়া- তার বহু সাধনার ক্যারিয়ারের সঙ্গে মানানসই নয়।
মেসি জানতেন কখন ‘বিদায়’ বলতে হয়: তুলনামূলকভাবে লিওনেল মেসির দিকে তাকান। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে হারের পর একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও পরে তিনি তা ফিরিয়ে নেন। কিন্তু তার আসল বিদায়টি হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে।
বহু বছর ধরে নানা সমালোচনা সহ্য করার পর মেসিসহ আর্জেন্টিনা দল ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয় করে, এরপর কোপা আমেরিকা জেতে এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলে শেষ পর্যন্ত ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান।
তিনি সরে দাঁড়াননি কারণ তিনি খেলতে পারছিলেন না। কেউ তাকে যেতে বলেননি। অন্য কোনো খেলোয়াড় তার চেয়ে ভালো খেলছে- এমন কথা শোনার জন্যও তিনি অপেক্ষা করেননি। মেসি কেবল টের পেয়েছিলেন যে তার গল্পের শেষ অধ্যায় এসে গেছে। আর এখানেই হলো মূল পার্থক্য।
একইভাবে জিনেদিন জিদানও জানতেন কখন থেমে যেতে হয়। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপকেই ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের শেষ অধ্যায় ঘোষণা করে তিনি এক দুর্দান্ত টুর্নামেন্ট উপহার দেন এবং দেশকে ফাইনালে নিয়ে যান। যদিও ইতালি ম্যাচের পর লাল কার্ড দেখে তার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হয়েছিল কিছুটা তিক্ততায়।
তবুও জিদান এমন পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করেননি যেখানে জাতীয় দলে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে প্রতিদিন প্রশ্ন উঠবে। তিনি জানতেন এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ, তাই ৩৪ বছর বয়সেই তিনি বিদায় নেন।
ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় পেলের কাছ থেকেও রোনালদো বড় শিক্ষা নিতে পারতেন। ১৯৭০ সালে ব্রাজিলকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতানোর পর ১৯৭১ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেন পেলে। তিনি এমন সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেননি যখন তার পারফরম্যান্স সাধারণ হয়ে পড়বে কিংবা নতুন কোনো কোচ এসে তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। পেলে নিজে থেকেই সঠিক মুহূর্তটি বেছে নিয়েছিলেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.