প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩১ (শুক্রবার)
ছয় বছর ধরে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল

লাইসেন্স ছাড়াই টানা ছয় বছর ধরে সিলেটের জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। খোদ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল পরিচালনার বিষয়ে সাধারণ লোকজন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখারও দাবী জানানো হয়েছে। 

 

জানা গেছে, সিলেট ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল। জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতি পরিচালিত এ হাসপাতালের পরিচালনার সাথে সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাগণ সম্পৃক্ত। কিন্তু আঁতকে উঠার মতো বিষয় হচ্ছে, টানা ছয় বছর ধরে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালের কার্যক্রম। সবশেষ ২০২১ সালের জুন মাসে জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন হয়। এরপর আর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। 
 

সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ সজল দেবকে লাইসেন্স নবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হন। 

 

অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত কমিটি গঠন না করে জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে ২০২৪ সালে এডহক কমিটি গঠন করা হয়। এই এডহক কমিটি দিয়েই টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছে। এই এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে সিলেটের সিভিল সার্জন দায়িত্ব পালন করছেন। খোদ সিভিল সার্জন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার পরেও লাইসেন্স নবায়ন হয়নি।

 

নিয়মিত কমিটি গঠন করে হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সমিতির ৪৫ জন আজীবন সদস্য বেশ কিছু দিন আগে সমিতির সভাপতি ও সিলেটের জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করেন। সাধারণ সভা আহবান কিংবা নিয়মিত কমিটি দুরে থাক উল্টো হাসপাতালের এফডিআর ভেঙে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফেকো মেশিন কেনা হচ্ছে। 


এ ব্যাপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ও জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, আগের পরিচালন পর্ষদ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হাসপাতাল পরিচালনা করেছেন। যে কারণে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। এখন এসব জটিলতা নিরসন হয়েছে। হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়নেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে ২-৩ মাসের মধ্যে নবায়ন হয়ে যাবে। 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/আশিক-০৭