সিলেটে ব্যবসায়ীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’। দুইবছর পর পর ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে গঠন হয় চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ। কিন্তু ২০১৯ সালের পর থেকে ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাননি ভোটাধিকার প্রয়োগের। কখনো গোপনে গঠন করা হয়েছে ‘সমঝোতার’ কমিটি। আবার নেতৃতের দ্বন্দ্বে কখনো বাতিল হয়েছে নির্বাচনী আয়োজন। তফশিল ঘোষণার পরও গেল এক বছরের মধ্যে দুইবার নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। বসানো হয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রশাসক।
এনিয়ে সিলেটের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে ভোটাধিকার হারিয়ে তারা সদস্যপদ নবায়নে আগ্রহ হারাচ্ছেন। আর ব্যবসায়ী নেতারাও বলছেন, নির্বাচিত পরিষদ না থাকায় ভ্যাট-ট্যাক্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে দরকষাকষিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কারও কোন ভূমিকা থাকছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে জেলার ব্যবসায়ীরা গোপন ব্যালটে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। এরপর করোনাভাইরাস মহামারিসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে ভোটাধিকার বঞ্চিত রাখা হয় চেম্বার সদস্যদের। ২০২৪ সালের ৯ মার্চ গোপনে সমঝোতার কমিটি গঠন করা হলে, সেবারও ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকেন সদস্যরা। একই বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সাধারণ ব্যবসায়ীরা সমঝোতার কমিটি বাতিল করে নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হন। তাদের লাগাতার কর্মসূচির মুখে ঘোষণা করা হয় তফশিল।
ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ও ব্যবসায়ী ফোরাম নামে দুটি প্যানেল অংশ নেয়। নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে উচ্চ আদালতে কয়েকজন ব্যবসায়ীর রিটের প্রেক্ষিতে ২৬ অক্টোবর বাণিজ্যমন্ত্রণালয় নির্বাচন স্থগিত করে। ওই সময় অভিযোগ ওঠে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একটি প্যানেলের মদদে ওই রিট হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পুণরায় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তারিখ ধার্য্য ছিল ৫ নভেম্বর। নির্বাচনে আগের মতো দুটি প্যানেল অংশ নেয়। কিন্তু গত ২৪ সেপ্টেম্বর তফশিল ও নির্বাচন বাতিল করে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। আগের প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহার স্থলাভিষিক্ত হন বিএনপি ঘরানার ব্যবসায়ী এজাজুল হক চৌধুরী। যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয় তাকে।
সূত্র জানায়, সর্বশেষ তফশিল ঘোষণার পর একটি পক্ষ ভোটের পরিবর্তে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু ওই প্রক্রিয়া সফল না হওয়ায় তফশিল ও নির্বাচন বাতিলে ভূমিকা রাখেন তারা।
এদিকে, নির্বাচন বাতিলের খবরে ক্ষোভের সঞ্চার হয় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই চেম্বারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। অনেকে আগামীতে সদস্যপদ নবায়ন না করার ঘোষণা দেন।
এ প্রসঙ্গে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, ‘চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত কারও কোন অভিযোগ ছিল না। তাহলে কোন গায়েবি অভিযোগে নির্বাচন বাতিল করা হল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। কিন্তু একটি মহল এরকম কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
সিলেট চেম্বারে নির্বাচিত পরিষদ না থাকায় ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কেউ নেই। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সাধারণ ব্যবসায়ীরা উৎসবের আমেজে ভোট দেওয়ার জন্যই পাঁচ হাজার টাকা ফি দিয়ে সদস্যপদ নবায়ন করেন। কিন্তু বার বার ভোট বাতিলের কারণে তারা ক্ষুব্ধ। তারা সদস্যপদ প্রত্যাহারের করার ঘোষনা দিচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.