প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৯ (শুক্রবার)
বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিক লা*ঞ্ছ*নার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার একপর্যায়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কথাকাটাকাটি ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে।
 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পাতিবার (১ অক্টোবর) সকালে মদিনা থেকে বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে ৩৪ জন যাত্রী ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট এবং লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
 

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। এজাহারে বলা হয়, নির্বাহী পরিচালক সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং গালিগালাজ ও হুমকি দেন। এ সময় ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেন আখতারুজ্জামান। এমনকি তিনি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও চরম অশালীন মন্তব্য করেন।
 

পরে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও ধারণ না করার জন্য তাদের নিষেধ করেন।

এজাহার অনুযায়ী, এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের কাছে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে শারীরিকভাবে আঘাতের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
 

মামলার বাদী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীবের অভিযোগ, ওই ঘটনার সময় বিমানবন্দরের কেপিআইভুক্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গেও আখতারুজ্জামান মারমুখী আচরণ করেন এবং সাধারণ যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল বা পাত্র ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এজাহারে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আঘাতের ঘটনাটি সিসিটিভির আওতাভুক্ত ছিল না। তাই প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, অন্যান্য আলামত ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের কথা বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়ার মাধ্যমে তদন্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের অতীত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও আচরণ বেশ বিতর্কিত। জানা যায়, তিনি তার সাবেক রাজনৈতিক দল বিএনপি থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট পাঁচবার বহিষ্কৃত হয়েছেন।
 

বারবার দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের মতো এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি তার সেই উচ্ছৃঙ্খল ও বিতর্কিত আচরণেরই একটি নতুন বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৩